Fossil

From LTRC
জীবাশ্ম / ফসিল
220px|অ্যামোনাইটের জীবাশ্ম
তিনটি ছোট অ্যামোনাইট জীবাশ্ম (প্রতিটি প্রায় ১.৫ সেমি প্রশস্ত)
ইংরেজি Fossil
মূল শব্দ লাতিন fodere (খনন করা)
অধ্যয়নের শাখা প্রত্নজীববিদ্যা (Paleontology)
প্রধান উপস্থিতি পাললিক শিলা (Sedimentary rock)
বয়সসীমা সাধারণত ১০,০০০ বছরের অধিক প্রাচীন

জীবাশ্ম (ইংরেজি: Fossil) বা ফসিল হলো সুদূর অতীতের ভূতাত্ত্বিক যুগে প্রাকৃতিক উপায়ে ভূগর্ভে বা পাললিক শিলাস্তরে সংরক্ষিত প্রাচীন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর সামগ্রিক দেহাংশ, কঙ্কাল, দৈহিক অবশেষ কিংবা তাদের জীবনযাত্রার ছাপ বা নিদর্শন।[1]

ইংরেজি 'Fossil' শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ fodere (যার অর্থ 'খনন করা') থেকে। প্রাচীন জৈব উপাদানগুলি সাধারণত রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খনিজের সংস্পর্শে এসে পাথরে রূপান্তরিত হয়। ভূতত্ত্ব এবং জীববিজ্ঞানের ধারায় জীবাশ্ম আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ পৃথিবীর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সৃষ্টি প্রক্রিয়া

প্রাকৃতিক কারণে বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কোনো জীব মারা গেলে তা বালু, কাদা বা পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে। সময়ের সাথে সাথে উপরিভাগের পলির অতিরিক্ত চাপ ও খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণে জীবের কোমল অংশগুলো পচে গেলেও শক্ত দেহাংশসমূহ (হাড়, খোলস বা দাঁত) ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়ে পাথরে পরিণত হয় অথবা শিলার মধ্যে নিজস্ব আকৃতির স্থায়ী ছাপ ফেলে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে জীবাশ্মীভবন (Fossilization) বলা হয়।[2]

সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ, পাহাড়ের ক্ষয়সাধন কিংবা ভূমিকম্পের ফলে ভূ-অভ্যন্তর থেকে এই জীবাশ্মগুলো উন্মোচিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত সুপরিচিত "পেট্রিফাইড ফরেস্ট" বা প্রস্তরীভূত বন এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও বিজ্ঞানীরা আফ্রিকায় ২০ লক্ষ বছরেরও বেশি প্রাচীন আদিম মানব প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন।

গুরুত্ব

জীবাশ্মের পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পৃথিবীর ইতিহাস জানতে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে:

  • বিবর্তনের ধারা অনুধাবন: পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভব, বিকাশ এবং বিলুপ্তির ধারাবাহিক ধারা বুঝতে জীবাশ্ম প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
  • শিলার বয়স নির্ধারণ: ভূতাত্ত্বিক যুগে নির্দিষ্ট প্রজাতির বিস্তার পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট পাললিক শিলার আপেক্ষিক বয়স নির্ণয় করা যায়। এদের সূচক জীবাশ্ম (Index Fossils) বলা হয়, যা ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা (Geological Time Scale) তৈরিতে সহায়ক।
  • প্রাচীন জলবায়ু নিরীক্ষণ: প্রাপ্ত জীবাশ্মের গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সুদূর অতীতের আবহাওয়া এবং পরিবেশগত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  • জ্বালানি উৎসের অনুসন্ধান: কিছু বিশেষ ধরণের জীবাশ্ম ও উদ্ভিদ অবশেষের বিস্তৃতি পর্যবেক্ষণ করে ভূগর্ভে কয়লা ও পেট্রোলিয়াম-এর খনির উপস্থিতি অনুমান করা সম্ভব হয়।

প্রকারভেদ

সংরক্ষণ পদ্ধতি ও গঠনের ওপর ভিত্তি করে জীবাশ্মকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

  • মমিভবন (Mummification): অনুকূল পরিবেশে সম্পূর্ণ জীবদেহের নিখুঁত অবিকৃত অবস্থা।
  • বরফে সংরক্ষিত জীবাশ্ম (Ice-embedded Fossils): হিমায়িত বরফের নিচে প্রায় অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত দেহ (যেমন—ম্যামথ)।
  • রেসিন বা অ্যাম্বার জীবাশ্ম (Resin/Amber Fossils): উদ্ভিদের আঠালো রজন বা অ্যাম্বারের মধ্যে আটকে থাকা কীটপতঙ্গের দেহাবশেষ।
  • প্রস্তরীকরণ (Petrifaction / Permineralization): খনিজ পদার্থের অনুপ্রবেশে জীবের শক্ত অংশ পাথরে রূপান্তরিত হওয়া।
  • ছাপ ও ছাঁচ (Moulds and Casts): পাথরের গায়ে জীবের শারীরিক ছাপ বা শূন্যস্থান পূরণকারী খনিজ প্রতিরূপ।
  • সংনমিত জীবাশ্ম (Compression Fossils): অতিরিক্ত চাপে উদ্ভিদের পাতার বা দেহাংশের পাতলা কার্বন স্তর হিসেবে থেকে যাওয়া।
  • অণু-জীবাশ্ম (Microfossils): অতি সূক্ষ্ম এককোষী বা আণুবীক্ষণিক জীবের জীবাশ্ম।

জীবন্ত জীবাশ্ম

যেসব জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনো রূপ উল্লেখযোগ্য বিবর্তনীয় পরিবর্তন ছাড়াই আজও পৃথিবীতে টিকে রয়েছে, অথচ তাদের সমসাময়িক সকল প্রজাতি বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলা হয় (যেমন—প্ল্যাটিপাস, সিলোক্যান্থ মাছ, গিংকো বিলোবা উদ্ভিদ)।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ British Geological Survey. "What is a fossil?". https://www.bgs.ac.uk/discovering-geology/fossils-and-geological-time/fossils/
  2. ↑ National Geographic Society. "Fossil". National Geographic Education.

বিষয়শ্রেণী:Fossil বিষয়শ্রেণী:জীবাশ্ম বিষয়শ্রেণী:ভূতত্ত্ব বিষয়শ্রেণী:প্রত্নজীববিদ্যা