বিলুপ্তি
Template:তথ্যছক সংরক্ষণ অবস্থা
বিলুপ্তি (Template:Lang-en) হলো জীববিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা, যার দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট ট্যাক্সন বা জীবপ্রজাতির (উদ্ভিদ, প্রাণী বা অণুজীব) সর্বশেষ জীবিত একক সদস্যটির চিরতরে মৃত্যুর মাধ্যমে সমগ্র প্রজাতিটির পৃথিবী থেকে নিঃশেষ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। যখন কোনো প্রজাতির অবশিষ্ট সদস্যদের প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং নতুন বংশধর তৈরি অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন প্রজাতিটি বিলুপ্তির নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছে যায়। ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসাবে কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার পর কেবল পাথরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম (fossils) বা অবশিষ্টাংশের মাধ্যমে এদের অতীত অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুসারে, পৃথিবীতে বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে উৎপত্তি লাভ করা প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি প্রজাতির মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি প্রজাতিই ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।[1][2]
বিলুপ্তির মূল কারণসমূহ
প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের নিয়মে প্রজাতির স্বাভাবিক বিলুপ্তি (background extinction) ঘটে থাকে; তবে বিভিন্ন যুগে পরিবেশের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক হারে বিলুপ্তি ঘটেছে:
- বাসস্থান ধ্বংস ও বন উজাড়: নগরায়ণ, কৃষিজমি সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়নের ফলে প্রাণীদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া।
- অতি-শিকার ও শোষণ: অর্থনৈতিক মুনাফা বা খাদ্যের জন্য নির্বিচারে শিকার (যেমন: ডোডো পাখি ও প্যাসেঞ্জার কবুতরের বিলুপ্তি)।
- আক্রমণাত্মক বহিরাগত প্রজাতি (Invasive Species): কোনো বাস্তুতন্ত্রে নতুন শিকারী বা প্রতিযোগী প্রজাতি প্রবেশ করলে আদি প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ও বিপর্যয়: উল্কাপাত, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, সমুদ্রের অম্লীকরণ এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
গণবিলুপ্তি (Mass Extinctions)
পৃথিবীর ইতিহাসে অন্তত পাঁচটি প্রধান গণবিলুপ্তির (Big Five) ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত প্রজাতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল:
- অর্ডোভিশিয়ান-সিলুরিয়ান গণবিলুপ্তি (প্রায় ৪৪ কোটি বছর আগে): হিমবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের পতনে প্রায় ৮৫% সামুদ্রিক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়।
- দেরি ডেভোনিয়ান গণবিলুপ্তি (প্রায় ৩৭.৫ কোটি বছর আগে): সমুদ্রের অক্সিজেন স্বল্পতায় জলজ বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি।
- পার্মিয়ান-ট্রায়াসিক গণবিলুপ্তি (প্রায় ২৫.২ কোটি বছর আগে): পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিলুপ্তি (The Great Dying), যেখানে প্রায় ৯৬% সামুদ্রিক ও ৭০% স্থলজ মেরুদণ্ডী প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়।
- ট্রায়াসিক-জুরাসিক গণবিলুপ্তি (প্রায় ২০.১ কোটি বছর আগে): বৃহৎ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বহু উভচর ও সরীসৃপ বিলুপ্ত হয়।
- ক্রিটেশিয়াস-প্যালিওজিন গণবিলুপ্তি (প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগে): বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর প্রায় ৭৫% প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যায়।
বর্তমানে মানবসৃষ্ট কার্যকলাপের ফলে পৃথিবী ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি বা হলোসিন বিলুপ্তির (Holocene extinction) মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
উল্লেখযোগ্য আধুনিক বিলুপ্ত প্রজাতিসমূহ
- ডোডো পাখি (Raphus cucullatus): মরিশাস দ্বীপের উড্ডয়নহীন পাখি, যা মানুষের অতি-শিকারের ফলে ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে বিলুপ্ত হয়।
- থাইলাসিন বা তাসমানিয়ান বাঘ (Thylacinus cynocephalus): ১৯৩৬ সালে খাঁচায় শেষ সদস্যটির মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত।
- প্যাসেঞ্জার কবুতর (Ectopistes migratorius): উত্তর আমেরিকার আকাশে কোটি কোটি থাকা সত্ত্বেও নির্বিচার শিকারে ১৯১৪ সালে শেষ পাখি 'মার্থা'র মৃত্যুর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়।
- কোয়াগা (Equus quagga quagga): দক্ষিণ আফ্রিকার জেব্রার একটি উপপ্রজাতি, যা ১৯শ শতাব্দীর শেষে বিলুপ্ত হয়।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ The Biology of Rarity: Causes and consequences of rare—common differences – ১৯৯৬।
- ↑ Watching, from the Edge of Extinction – Yale University Press, ২০০০।
শ্রেণী:সংরক্ষণ অবস্থা শ্রেণী:বিলুপ্ত প্রজাতি শ্রেণী:বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান শ্রেণী:বাস্তুসংস্থান শ্রেণী:জীবাশ্মবিজ্ঞান
