এস্ট্রাডিওল (Estradiol)

From LTRC

Template:Infobox drug

এস্ট্রাডিওল (ইংরেজি: Estradiol বা Oestradiol) হলো একটি স্টেরয়েড হরমোন এবং মহিলাদের প্রধান সেক্স হরমোন। এটি প্রধানত মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মূলত ডিম্বাশয় (Ovary), অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি এবং গর্ভাবস্থায় অমরা বা প্লাসেন্টা দ্বারা উৎপাদিত হয়।[1] মহিলাদের শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের যে প্রধান ধরনগুলো রয়েছে, তার মধ্যে এস্ট্রাডিওল (E2) সবচেয়ে শক্তিশালী।

মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন- যোনি, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামের বৃদ্ধিতে এস্ট্রাডিওল গ্রোথ হরমোন হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণুগুলোর সঠিক বিকাশ ও ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।[1]

চিকিৎসায় ব্যবহার

চিকিৎসাক্ষেত্রে এস্ট্রাডিওল একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:

  • মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি: মেনোপজের সময় মহিলাদের শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে হট ফ্লাশ (হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া), অতিরিক্ত ঘাম, যোনিপথের শুষ্কতা, চুলকানি এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলো নিরাময়ে এস্ট্রাডিওল জেল, স্প্রে বা ক্রিম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[2]
  • যে সকল মহিলাদের জরায়ু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে, তাদের হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে এটি দেওয়া হয়।[3]

কার্যপ্রণালী

এস্ট্রাডিওল তার লক্ষ্য কোষে (যেমন- প্রজনন অঙ্গ, স্তন, হাইপোথ্যালামাস) সহজেই প্রবেশ করতে পারে। কোষে প্রবেশের পর এটি এস্ট্রোজেন রিসেপ্টরের (Estrogen receptor) সাথে যুক্ত হয়ে কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে এবং জিনের ট্রান্সক্রিপশন (mRNA উৎপাদন) নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে লক্ষ্য কোষে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি হয় যা প্রজননতন্ত্রের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করে।[4]

ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম

এস্ট্রাডিওল হলো একটি গন্ধহীন, সাদা স্ফটিকাকার পদার্থ। এটি এস্ট্রোজেন নামক স্টেরয়েড লিপিড অণুর অন্তর্ভুক্ত।

  • রাসায়নিক সংকেত: C18H24O2
  • আণবিক ভর: ২৭২.৪ গ্রাম/মোল
  • গলনাঙ্ক: ১৭৮-১৭৯ °C
  • দ্রাব্যতা: এটি পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়, কিন্তু অ্যাসিটোন, ইথানল এবং ডাইঅক্সেনে খুব সহজেই দ্রবীভূত হয়।[5]

অতিরিক্ত উত্তপ্ত করা হলে এটি বিয়োজিত হয়ে তীব্র গন্ধযুক্ত এবং চোখ জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী ধোঁয়া নির্গত করে।

ইতিহাস

প্রাচীন মিশরের ফারাও রাজা তুতেনখামুনের (১৩৪১ - ১৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) একটি মূর্তিতে গাইনোকোমাস্টিয়া (পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি)-এর লক্ষণ পাওয়া যায়, যা পুরুষদের শরীরেও এস্ট্রোজেনের উপস্থিতির একটি ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।[6]

১৯১৭ সালে ড. প্যাপানিকোলাউ এবং স্টককার্ড গিনিপিগের ওপর গবেষণার মাধ্যমে এস্ট্রোজেনের ভূমিকা প্রথম বর্ণনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৩ সালে জেমস কলিপ প্রথম 'এমেনিন' (Emmenin) নামে একটি হরমোন থেরাপি তৈরি করেন, যা গর্ভবতী মহিলাদের প্রস্রাব থেকে তৈরি হয়েছিল। ১৯৪১ সালে এটি 'প্রিমারিন' (Premarin) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা গর্ভবতী ঘোড়ার প্রস্রাব থেকে নিষ্কাশিত এস্ট্রোজেন দিয়ে তৈরি হতো।

তথ্যসূত্র

Template:সূত্র তালিকা

বিষয়শ্রেণী:SciWiki Medicines বিষয়শ্রেণী:হরমোন বিষয়শ্রেণী:ওষুধ