বম্বে ব্লাড গ্রুপ

From LTRC
Revision as of 09:44, 21 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{{Infobox | title = বম্বে ব্লাড গ্রুপ | label1 = আবিষ্কারক | data1 = ডা. ওয়াই. এম. ভেন্ডে | label2 = আবিষ্কারের বছর | data2 = ১৯৫২ | label3 = আবিষ্কারের স্থান | data3 = বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই), মহারাষ্ট্র, ভারত | label4 = অন্যান্য নাম | d...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)

Template:Infobox

বম্বে ব্লাড গ্রুপ (Bombay blood group) বা বম্বে রক্তের ধরন হলো মানুষের রক্তের একটি অত্যন্ত বিরল ফিনোটাইপ। ১৯৫২ সালে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী বোম্বাইয়ে (বর্তমান মুম্বাই) ডা. ওয়াই. এম. ভেন্ডে (Y. M. Bhende) প্রথমবারের মতো এই রক্তের গ্রুপটি আবিষ্কার করেন। এটি অত্যন্ত বিরল একটি গ্রুপ এবং বিশ্বব্যাপী এর হার খুবই কম হলেও, এই রক্ত যাদের শরীরে রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই মুম্বাই বা ভারতীয় উপমহাদেশে দেখতে পাওয়া যায়। এই রক্তের গ্রুপটি সম্পূর্ণ বংশগত বা জিনগতভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।

বৈজ্ঞানিক কারণ ও বৈশিষ্ট্য

প্রথম যে ব্যক্তির শরীরে বম্বে ফিনোটাইপ (Bombay phenotype) পাওয়া গিয়েছিল, তার রক্ত অন্যান্য সাধারণ রক্তের গ্রুপের প্রতি এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত মানুষের এ, বি, ও (ABO) ব্লাড গ্রুপের রক্তে সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি থাকে। কিন্তু বম্বে ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তির সিরামে এমন কিছু অ্যান্টিবডি ছিল, যা সাধারণ ABO ফিনোটাইপের সমস্ত লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে।

এই রক্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— এদের লোহিত রক্তকণিকায় সাধারণ ABO ব্লাড গ্রুপের কোনো অ্যান্টিজেন (A বা B) থাকে না। এমনকি এতে 'H' অ্যান্টিজেনও অনুপস্থিত থাকে, যা অন্যান্য সব রক্তের গ্রুপে (এমনকি O গ্রুপেও) প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান থাকে। 'H' অ্যান্টিজেনের এই অনুপস্থিতির কারণেই একে অনেক সময় hh ব্লাড গ্রুপ বলা হয়।

রক্ত সঞ্চারণের জটিলতা ও সতর্কতা

রক্ত সঞ্চারণের (Blood transfusion) সময় যেকোনো ধরনের মারাত্মক জটিলতা এড়াতে বম্বে ফিনোটাইপযুক্ত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ ABO ব্লাড গ্রুপের পরীক্ষায় বম্বে ব্লাড গ্রুপকে ভুলবশত 'O' (ও) পজিটিভ বা নেগেটিভ গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ এতে A এবং B কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না এবং এটি অ্যান্টি-A বা অ্যান্টি-B এর সাথে কোনো বিক্রিয়া করে না। কিন্তু যদি কোনো বম্বে ব্লাড গ্রুপের রোগীকে সাধারণ 'O' গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়, তবে তার রক্তে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-এইচ ইমিউনোগ্লোবুলিনস (Anti-H immunoglobulins) কমপ্লিমেন্ট ক্যাসকেড সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালনের সময় রক্তনালীর ভেতরেই লোহিত রক্তকণিকাগুলো ভেঙে যায় (লাইসিস বা Lysis) এবং মারাত্মক হেমোলাইটিক ট্রান্সফিউশন রিঅ্যাকশন (Hemolytic transfusion reaction) ঘটে, যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

যারা রক্ত পরীক্ষা করেন এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন, তাদের অবশ্যই বম্বে ব্লাড গ্রুপের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সাধারণ পরীক্ষার পাশাপাশি 'অ্যান্টি-এইচ' (Anti-H) লেকটিন ব্যবহার করে সঠিক পরীক্ষা করার মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের মারাত্মক ভুল প্রতিরোধ করা সম্ভব। বম্বে ব্লাড গ্রুপের একজন রোগী কেবল আরেকজন বম্বে ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তির কাছ থেকেই রক্ত গ্রহণ করতে পারেন।

তথ্যসূত্র

Cite error: <ref> tag with name "bbc1" defined in <references> is not used in prior text.
Cite error: <ref> tag with name "dh1" defined in <references> is not used in prior text.

বহিঃসংযোগ

  • BombayBloodGroup.Org - বম্বে ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের ওয়েবসাইট।

বিষয়শ্রেণী:রক্ত বিষয়শ্রেণী:জিনতত্ত্ব বিষয়শ্রেণী:হেমাটোলজি বিষয়শ্রেণী:sciwiki Bombay blood type