মেলেনা (Melena / আলকাতরার মতো কালো পায়খানা)

From LTRC
Revision as of 23:59, 27 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{| class="infobox medical condition" style="text-align: left; width: 22em; font-size: 88%; line-height: 1.5em; border: 1px solid #a2a9b1; background-color: #f8f9fa; padding: 5px; margin: 0.5em 0 0.5em 1em; float: right; clear: right;" ! colspan="2" style="text-align: center; font-size: 125%; font-weight: bold; background-color: #e0e8f0; padding: 4px;" | মেলেনা (Melena) |- | colspan="2" style="text-align: center;" | File:Melena Bleeding DU.jpg|220px|ডু...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
মেলেনা (Melena)
ডুওডেনাল আলসারজনিত রক্তক্ষরণ ও মেলেনা
ঊর্ধ্ব পরিপাকতন্ত্রে ডুওডেনাল আলসার থেকে রক্তপাতের ফলে মেলেনার সৃষ্টি
চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় বিবরণ
চিকিৎসা ক্ষেত্র: গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (Gastroenterology), জরুরি চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাধারণ শল্যচিকিৎসা
লক্ষণসমূহ: আলকাতরার মতো ঘন, কালো, পিচ্ছিল ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত মলত্যাগ
জটিলতা: মারাত্মক রক্তস্বল্পতা (Anemia), হাইপোভোলেমিয়া, কার্ডিওভাসকুলার শক
প্রধান কারণ: পেপটিক আলসার, খাদ্যনালীর ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, ম্যালোরি-উইস টিয়ার, পাকস্থলীর ক্যান্সার
রোগ নির্ণয়: আপার জিআই এন্ডোস্কোপি, সিবিসি ও রক্ত পরীক্ষা, মল পরীক্ষা (FOBT), নিউক্লিয়ার রেড সেল স্ক্যান
চিকিৎসা: তরল পুনর্ভরণ ও রক্ত সঞ্চালন, আইভি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI), এন্ডোস্কোপিক হেমোস্ট্যাসিস (ব্যান্ডিং, ক্লিপিং, থার্মাল কোয়াগুলেশন)

মেলেনা (Template:Lang-en বা Template:Lang-en) হলো মানবদেহের একটি গুরুতর চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় লক্ষণ, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আলকাতরার মতো ঘন, আঠালো, চকচকে কালো এবং তীব্র কটু দুর্গন্ধযুক্ত মলত্যাগ।[1] এটি মূলত ঊর্ধ্ব পরিপাকতন্ত্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তক্ষরণের (Upper Gastrointestinal Bleeding) সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। পাকস্থলী বা ডুওডেনাম থেকে নির্গত রক্ত যখন ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র অতিক্রম করে, তখন রক্তের হিমোগ্লোবিন পরিপাকনালীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, পরিপাককারী উৎসেচক এবং অন্ত্রীয় ব্যাকটেরিয়ার রাসায়নিক ক্রিয়ায় জারিত হয়ে কালচে রঙের 'হেমাটিন' (Hematin)-এ রূপান্তরিত হয়। এর ফলেই মলে এই চারিত্রিক কালো বর্ণ ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

'মেলেনা' শব্দটি ১৯শ শতাব্দীর শুরুতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রচলিত হয়, যা গ্রিক শব্দ μέλαινα (melaina - যার অর্থ কালো বা অন্ধকার) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এটি পরিপাকতন্ত্রের তীব্র রক্তপাতের নির্দেশক হওয়ায় এটিকে একটি জরুরি স্বাস্থ্যগত সংকট (Medical emergency) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মেলেনা ও হেমাটোকেজিয়ার মধ্যে পার্থক্য

পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণের অবস্থান ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে পরিভ্রমণের সময়ের ওপর ভিত্তি করে মলের রঙের পার্থক্য ঘটে:[2]

  • মেলেনা (Melena): রক্তক্ষরণের উৎস সাধারণত ট্রেইটসের লিগামেন্ট (Ligament of Treitz)-এর ওপরে—যেমন খাদ্যনালী, পাকস্থলী বা ডুওডেনামে অবস্থিত হয়। রক্ত পরিপাকনালীর ভেতরে প্রায় ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করায় তা ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান ও অ্যাসিডে পরিবর্তিত হয়ে কালো রঙ ধারণ করে।
  • হেমাটোকেজিয়া (Hematochezia): সাধারণত নিম্ন পরিপাকতন্ত্র (কোলন, মলাশয় বা পায়ুপথ) থেকে রক্তপাত হলে তা অপরিবর্তিত থাকে এবং মলত্যাগের সময় তাজা ও উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হয়। তবে ঊর্ধ্ব পরিপাকতন্ত্রে অতি দ্রুত ও ব্যাপক মাত্রায় রক্তপাত (১ লিটারের বেশি) হলে সময় না পাওয়ার কারণেও হেমাটোকেজিয়া দেখা দিতে পারে।

প্রধান কারণসমূহ

১. সাধারণ ও ক্লিনিকাল কারণসমূহ

  • পেপটিক আলসার রোগ (Peptic Ulcer Disease): মেলেনার সর্বাধিক পরিচিত কারণ (প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে)। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ বা ব্যথানাশক এনএসএআইডি (NSAIDs) ওষুধের ব্যবহারের ফলে পাকস্থলী বা ডুওডেনামে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত ঘটে।[3]
  • খাদ্যনালীর ভ্যারিক্স (Esophageal Varices): যকৃতের সিরোসিসের কারণে পোর্টাল শিরায় উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হলে খাদ্যনালীর নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে ফেটে গিয়ে তীব্র রক্তক্ষরণ ঘটায়।
  • ম্যালোরি-উইস সিন্ড্রোম (Mallory-Weiss Tear): তীব্র বমি বা হেঁচকির চাপে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর সংযোগস্থলের শ্লেষ্মাঝিল্লি ছিঁড়ে রক্তপাত।
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার: গ্যাস্ট্রিক অ্যাডেনোকার্সিনোমা বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST)।
  • অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ও রক্তক্ষরণজনিত রোগ: ওয়ারফারিন, হেপারিন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় রক্ত পাতলাকারী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হিমোফিলিয়া এবং থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া।
  • মেকেলস ডাইভার্টিকুলাম ও রক্তনালীর বিকৃতি: ডিউলাফয় লিশন বা আর্টেরিওভেনাস ম্যালফরমেশন।

২. কৃত্রিম বা ছদ্ম-মেলেনা (Pseudo-melena)

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ও খাদ্যের কারণেও মল কালো হতে পারে, তবে তা প্রকৃত মেলেনা নয় (এতে রক্তের উপস্থিতি বা তীব্র দুর্গন্ধ থাকে না):[4]

  • আয়রন ট্যাবলেট বা লোহাযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ।
  • বিসমাথ সাবস্যালিসাইলেট (পেপ্টো-বিসমল) সেবন।
  • প্রচুর পরিমাণে বিটরুট, ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরি বা কালো লিকারিস (যষ্টিমধু) খাওয়া।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়ার (Epistaxis) পর অসাবধানতাবশত রক্ত গিলে ফেলা।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করার পাশাপাশি রক্তক্ষরণের মূল উৎস শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি: ১. আপার জিআই এন্ডোস্কোপি (Upper GI Endoscopy): মেলেনা শনাক্তকরণের প্রধান ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্বর্ণমান পরীক্ষা। মুখ দিয়ে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও ডুওডেনামের ক্ষত সরাসরি দেখা হয় এবং তাৎক্ষণিক রক্তপাত বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২. রক্ত পরীক্ষা: সিবিসি (হিমোগ্লোবিন ও হেমাটোক্রিট মাত্রা কমে যাওয়া), প্লাটিলেট কাউন্ট, কোয়াগুলেশন প্রোফাইল (PT/INR) এবং রক্তে ইউরিয়া/ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পর্যালোচনা। ৩. কোলোনোস্কোপি ও নিউক্লিয়ার স্ক্যান: এন্ডোস্কোপিতে উৎস না পাওয়া গেলে নিম্ন পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষার জন্য কোলোনোস্কোপি অথবা ধীরগতির রক্তপাত (< ০.৫ মিলি/মিনিট) শনাক্ত করতে রেড ব্লাড সেল (RBC) নিউক্লিয়ার স্ক্যান করা হয়।[5] ৪. মেসেন্টেরিক অ্যানজিওগ্রাফি: দ্রুত রক্তপাতের ক্ষেত্রে রক্তনালীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয়।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

১. জরুরি পুনরুজ্জীবন (Emergency Resuscitation)

  • রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাৎক্ষণিক আইসোলেটেড শিরায় ক্যানুলা স্থাপন।
  • রক্তচাপ ও রক্তের আয়তন বজায় রাখতে দ্রুত আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন) এবং তীব্র রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে ক্রস-ম্যাচিং সাপেক্ষে রক্ত সঞ্চালন (Blood Transfusion)।

২. ঔষধভিত্তিক চিকিৎসা

  • উচ্চমাত্রার প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI): আইভি ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল বা এসোমিপ্রাজল ইনজেকশন পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে আলসারের ওপর রক্তের জমাট অক্ষুণ্ণ রাখে।
  • ভাসোঅ্যাক্টিভ ড্রাগস: ভ্যারিসিয়াল রক্তক্ষরণে অক্ট্রিওটাইড (Octreotide) বা টেরলিপপ্রেসিন প্রয়োগ করে পোর্টাল শিরার রক্তচাপ কমানো হয়।
  • রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক অ্যান্টি-ফাইব্রিনোলাইটিক ওষুধ প্রয়োগ।

৩. এন্ডোস্কোপিক ও সার্জিক্যাল চিকিৎসা

  • এন্ডোস্কোপিক ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (EVL): খাদ্যনালীর ফোলা শিরায় রিং বা ব্যান্ড পরিয়ে রক্তপাত বন্ধ করা।
  • এন্ডোস্কোপিক হেমোক্লিপিং ও থার্মাল কোয়াগুলেশন: রক্তক্ষরণকারী আলসারের মুখে ধাতব ক্লিপ বা তাপরশ্মি (APC) প্রয়োগ।
  • ওষুধ ও এন্ডোস্কোপিতে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ না হলে টিপস (TIPS) বা শল্যচিকিৎসার (Surgery) মাধ্যমে ক্ষতস্থান অপসারণ করা হয়।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ Walker, B. R., et al. (2014). Davidson's Principles and Practice of Medicine (22nd ed.). Churchill Livingstone, পৃ. ৮৫৪। ISBN 978-0-7020-5103-6.
  2. ↑ Talley, N. J., & O'Connor, S. (2014). Clinical Examination: A Systematic Guide To Physical Diagnosis (7th ed.). Churchill Livingstone. ISBN 9780729541473.
  3. ↑ Walker, H. K., Hall, W. D., & Hurst, J. W. (1990). Hematemesis, Melena, and Hematochezia. Clinical Methods: The History, Physical, and Laboratory Examinations. Butterworths. ISBN 9780409900774.
  4. ↑ Bloody or tarry stools – MedlinePlus, National Institutes of Health, ২০০৯।
  5. ↑ Eastwood, G. L. (2010). Gastrointestinal Bleeding. Decision Making in Medicine (3rd ed.). Mosby Elsevier, পৃ. ১৯৬–১৯৯। ISBN 978-0-323-04107-2.