মানব পরিপাকতন্ত্র (Human Digestive System / পরিপাক পৌষ্টিকতন্ত্র)

From LTRC
Revision as of 23:58, 27 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{| class="infobox anatomy" style="text-align: left; width: 22em; font-size: 88%; line-height: 1.5em; border: 1px solid #a2a9b1; background-color: #f8f9fa; padding: 5px; margin: 0.5em 0 0.5em 1em; float: right; clear: right;" ! colspan="2" style="text-align: center; font-size: 125%; font-weight: bold; background-color: #e0e8f0; padding: 4px;" | মানব পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) |- | colspan="2" style="text-align: center;" | File:Sobo 1...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
মানব পরিপাকতন্ত্র (Digestive System)
মানব পরিপাকতন্ত্রের রেখাচিত্র
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট গ্রন্থিসমূহের শারীরস্থানিক রূপরেখা
শারীরস্থানিক বিবরণ
ল্যাটিন নাম: systema digestorium
অংশসমূহ: পৌষ্টিকনালী (Alimentary canal) ও সহায়ক পৌষ্টিকগ্রন্থিসমূহ (Accessory digestive glands)
প্রধান অঙ্গসমূহ: মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালী, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, মলাশয় ও পায়ু
সহায়ক গ্রন্থি: লালাগ্রন্থি, যকৃত, পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয়
চিকিৎসা ক্ষেত্র: গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (Gastroenterology)
প্রধান কাজ: খাদ্য গ্রহণ, যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিপাক, পুষ্টি ও পানি শোষণ, বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং অপাচ্য বর্জ্য নিষ্কাশন

মানব পরিপাকতন্ত্র (Template:Lang-la, Template:Lang-en) হলো মানবদেহের একটি অত্যন্ত জটিল ও সুসংবদ্ধ অঙ্গসংস্থানিক তন্ত্র, যা গৃহীত খাদ্যবস্তুকে যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে কোষের শোষণোপযোগী সরল ও তরল উপাদানে রূপান্তরিত করে, রক্তের মাধ্যমে সমগ্র দেহে পুষ্টি সঞ্চালন নিশ্চিত করে এবং অপাচ্য বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়। মানুষের পরিপাকতন্ত্র মূলত মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৯ মিটার দীর্ঘ পৌষ্টিকনালী (Alimentary canal) এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তাকারী বিভিন্ন পৌষ্টিকগ্রন্থির (Digestive glands) সমন্বয়ে গঠিত।

খাদ্যের জটিল রাসায়নিক অণুগুলোকে (যেমন: জটিল শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ) উৎসেচক বা এনজাইম এবং পাচক রসের সাহায্যে সরল অণুতে (যেমন: গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল) পরিণত করাই পরিপাক প্রক্রিয়ার মূল শারীরবৃত্তীয় লক্ষ্য। পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় অধ্যয়ন ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে পরিভাষায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (Gastroenterology) বলা হয়।

পরিপাকতন্ত্রের প্রধান গাঠনিক অংশসমূহ

১. পৌষ্টিকনালী (Alimentary Canal)

পৌষ্টিকনালী ক্রমান্বয়ে সজ্জিত নিম্নলিখিত প্রধান অঙ্গগুলো নিয়ে গঠিত:

  • মুখ ও মুখগহ্বর (Mouth & Oral Cavity): খাদ্য গ্রহণের প্রবেশদ্বার। দাঁত ও জিহ্বার সাহায্যে খাদ্য চর্বণ (যান্ত্রিক পরিপাক) ঘটে এবং লালারস মিশ্রিত হয়ে খাদ্য নরম পিচ্ছিল মণ্ডে (Bolus) পরিণত হয়।
  • গলবিল (Pharynx): মুখগহ্বরের পেছনের অংশ, যা খাদ্যমণ্ডকে খাদ্যনালীতে প্রবেশে পথ তৈরি করে এবং এপিগ্লটিসের মাধ্যমে শ্বাসনালী বন্ধ রেখে খাদ্যকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
  • অন্ননালী বা খাদ্যনালী (Esophagus): একটি পেশিবহুল নালী, যা অনৈচ্ছিক ছন্দোবদ্ধ পেশি সংকোচন বা পেরিস্টালসিস (Peristalsis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যমণ্ডকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়।
  • পাকস্থলী (Stomach): 'J' আকৃতির পেশিবহুল থলি। এতে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ($HCl$) ও পেপসিন এনজাইম ক্ষরিত হয়ে খাদ্যের জীবাণু ধ্বংস করে এবং প্রোটিন পরিপাক শুরু করে খাদ্যকে অর্ধ-তরল কাইমে (Chyme) রূপান্তর করে।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine): পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘতম অংশ (প্রায় ৬ মিটার), যা তিনটি অংশে বিভক্ত—ডুওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
    • ডুওডেনামে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয় রস এসে খাদ্যের পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক পরিপাক সম্পন্ন করে।
    • ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে থাকা কোটি কোটি আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক বা ভিলাইয়ের (Villi) মাধ্যমে পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদান সরাসরি রক্ত ও লসিকায় শোষিত হয় (রাসায়নিক পরিপাক মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রেই সমাপ্ত হয়)।
  • বৃহদন্ত্র (Large Intestine): সিকাম (অ্যাপেন্ডিক্স সহ), কোলন (ঊর্ধ্বগামী, অনুপ্রস্থ, নিম্নগামী ও সিগময়েড), মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে গঠিত। এটি মূলত অপাচ্য অংশ থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ শোষণ করে মল গঠন করে।
  • মলাশয় ও পায়ুপথ (Rectum & Anus): মলাশয়ে মল সাময়িকভাবে সঞ্চিত থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় পর অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ স্ফিংক্টার পেশির মাধ্যমে পায়ুপথ দিয়ে বাইরে নিষ্কাশিত (মলত্যাগ) হয়।

২. সহায়ক পৌষ্টিকগ্রন্থিসমূহ (Accessory Glands)

পৌষ্টিকনালীর বাইরে অবস্থিত কিন্তু বিশেষ নালীর মাধ্যমে পাচক রস ক্ষরণকারী গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিসমূহ:

  • লালাগ্রন্থি (Salivary Glands): প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার ও সাবলিঙ্গুয়াল—এই তিন জোড়া গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের 'টায়ালিন' (স্যালিভারি অ্যামাইলেজ) শর্করার প্রাথমিক পরিপাক ঘটায়।
  • যকৃত (Liver): মানবদেহের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ গ্রন্থি। এটি পিত্তরস (Bile) তৈরি করে, যা ফ্যাট বা চর্বির ইমালসিফিকেশনে অংশ নেয়। এছাড়া এটি বিপাকীয় কারখানা হিসেবে গ্লুকোজ ও পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে।
  • পিত্তথলি (Gallbladder): যকৃতে উৎপন্ন পিত্তরসকে সঞ্চয় ও ঘনীভূত করে রাখে এবং খাবার গ্রহণের সময় ডুওডেনামে ক্ষরণ করে।
  • অগ্ন্যাশয় (Pancreas): একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। এর বহিঃক্ষরা অংশ থেকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ সমৃদ্ধ শক্তিশালী ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়, যা প্রোটিন, শর্করা ও চর্বির চূড়ান্ত পরিপাক ঘটায়।

পরিপাকতন্ত্রের প্রধান শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি

  • খাদ্য গ্রহণ ও চর্বণ (Ingestion & Mastication): খাদ্যবস্তু মুখগহ্বরে প্রবেশ করানো এবং দাঁতের মাধ্যমে পিষে ক্ষুদ্র করা।
  • রাসায়নিক পরিপাক (Digestion): উৎসেচক ও পাচক অ্যাসিডের মাধ্যমে জটিল জৈব অণুকে ভেঙে শোষণযোগ্য সরল পুষ্টিতে রূপান্তর করা।
  • পুষ্টি ও পানি শোষণ (Absorption): ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই দিয়ে অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লুকোজ, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বৃহদন্ত্র দিয়ে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট রক্তপ্রবাহে শোষণ।
  • হরমোন ও বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণ (Assimilation): যকৃতে শোষিত পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দেহের প্রবৃদ্ধি এবং শক্তির জন্য তা বিতরণ।
  • বর্জ্য নিষ্কাশন (Egestion / Defecation): অপাচ্য অবশিষ্টাংশ শরীর থেকে বের করে দিয়ে অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা।

পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত প্রধান রোগব্যাধি

  • গ্যাস্ট্রাইটিস ও পেপটিক আলসার: পাকস্থলীর শ্লেষ্মাঝিল্লির প্রদাহ বা ক্ষত।
  • গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD): পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে বুকজ্বালা ও প্রদাহ তৈরি করা।
  • প্রদাহজনিত অন্ত্ররোগ (IBD) ও আইবিএস (IBS): আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রোনস ডিজিজ ও ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম।
  • যকৃত ও পিত্তথলির রোগ: হেপাটাইটিস, জন্ডিস, ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস এবং পিত্তথলির পাথর।
  • সংক্রমণ ও পরিপাকনালীর রক্তক্ষরণ: গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস (ফুড পয়জনিং), কলেরা এবং ঊর্ধ্ব বা নিম্ন পরিপাকতন্ত্রীয় রক্তক্ষরণ।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র