পিত্তরস (Bile / Gall)

From LTRC
Revision as of 23:57, 27 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{| class="infobox anatomy" style="text-align: left; width: 22em; font-size: 88%; line-height: 1.5em; border: 1px solid #a2a9b1; background-color: #f8f9fa; padding: 5px; margin: 0.5em 0 0.5em 1em; float: right; clear: right;" ! colspan="2" style="text-align: center; font-size: 125%; font-weight: bold; background-color: #e0e8f0; padding: 4px;" | পিত্তরস (Bile) |- | colspan="2" style="text-align: center;" | File:Digestive system showing bile duct-te.png|220p...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
পিত্তরস (Bile)
পিত্তনালী ও পরিপাকতন্ত্র
যকৃত, পিত্তথলি, পিত্তনালী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের ডুওডেনামের সম্পর্ক
শারীরবৃত্তীয় ও জৈবরাসায়নিক বিবরণ
ল্যাটিন নাম: bilis (গ্রিক: chole)
অংশ: পরিপাকতন্ত্র / বিলিয়ারি সিস্টেম
উৎপত্তিস্থল: যকৃত (হেপাটোসাইট কোষ)
সংরক্ষণাগার: পিত্তথলি (Gallbladder)
নির্গমন স্থান: ক্ষুদ্রান্ত্রের ডুওডেনাম (অ্যাম্পুলা অব ভাটার)
দৈনিক উৎপাদন: প্রায় ৮০০ থেকে ১,০০০ মিলি (০.৮–১.০ লিটার)
পিএইচ (pH) মান: ৭.০ – ৮.৫ (সামান্য ক্ষারীয়)
প্রধান কাজ: চর্বির ইমালসিফিকেশন, চর্বিদ্রাব্য ভিটামিন শোষণ, বর্জ্য নিঃসরণ

পিত্তরস বা পিত্ত (Template:Lang-en, Template:Lang-la, প্রাচীন গ্রিক: Template:Lang-el বা chole) হলো মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের যকৃতে ক্রমাগত উৎপন্ন হওয়া একটি গাঢ় তিক্ত স্বাদযুক্ত, হলুদাভ-সবুজ বর্ণের ক্ষারীয় শারীরিক পরিপাক তরল।[1] যকৃতের হেপাটোসাইট কোষে তৈরি হওয়ার পর এটি হেপাটিক ও সিস্টিক নালীর মাধ্যমে গিয়ে সাময়িকভাবে পিত্তথলিতে (Gallbladder) জমা থাকে এবং সেখানে প্রায় ৫ থেকে ১৮ গুণ পর্যন্ত ঘনীভূত হয়। যখন চর্বিযুক্ত খাদ্য পাকস্থলী অতিক্রম করে ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ অর্থাৎ ডুওডেনামে প্রবেশ করে, তখন পিত্তথলি সংকুচিত হয়ে সাধারণ পিত্তনালীর (Common Bile Duct) মাধ্যমে পিত্তরসকে ডুওডেনামে উন্মুক্ত করে।[2]

পিত্তরসে কোনো সরাসরি পাচক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে না; তবুও এটি চর্বিজাতীয় খাদ্যের রাসায়নিক পরিপাক ও শোষণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে কাজ করে।

রাসায়নিক উপাদান ও গঠন

পিত্তরস মূলত পানি, অজৈব ইলেক্ট্রোলাইট এবং জটিল জৈব যৌগের একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ:[3]

  • পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট (প্রায় ৯৭%): সোডিয়াম ($Na^+$), পটাসিয়াম ($K^+$), ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$), ক্লোরাইড ($Cl^-$) এবং প্রচুর পরিমাণে বাইকার্বোনেট ($HCO_3^-$) আয়ন থাকে, যা পিত্তরসকে ক্ষারীয় (pH ৭.৫–৮.৫) রূপ দেয়।
  • পিত্তলবণ (Bile salts): পিত্তরসের প্রধান কার্যকরী জৈব উপাদান। এটি কোলিক অ্যাসিড ও চেনোডিঅক্সিকোলিক অ্যাসিডের সাথে গ্লাইসিন বা টরিন যুক্ত হয়ে তৈরি হওয়া সোডিয়াম ও পটাসিয়াম লবণ (যেমন: সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট)।
  • পিত্তরঞ্জক (Bile pigments): পুরাতন লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ভেঙে প্লীহা ও যকৃতে তৈরি হওয়া বর্জ্য রঞ্জক—হলুদ বর্ণের বিলিরুবিন (Bilirubin) এবং সবুজ বর্ণের বিলিভার্ডিন (Biliverdin)। মলের স্বাভাবিক বাদামী বর্ণ বিলিরুবিনের পরিবর্তিত রূপ 'স্টারকোবিলিন'-এর কারণেই হয়ে থাকে।
  • লিপিড ও কোলেস্টেরল: কোলেস্টেরল, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফসফোলিপিড (বিশেষ করে লেসিথিন)।
  • অন্যান্য উপাদান: ক্ষরিত কপার (তামা), ড্রাগস বা ওষুধের বিপাকীয় বর্জ্য এবং বিষাক্ত টক্সিন।

পিত্তরসের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি

১. চর্বির ইমালসিফিকেশন (Emulsification of Fats)

পিত্তলবণগুলো ডিটারজেন্টের মতো কাজ করে। এরা বৃহদাকার চর্বিকণাকে ভেঙে অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিন্দুতে (Micelles) পরিণত করে। এর ফলে চর্বির মোট পৃষ্ঠতল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত লাইপেজ এনজাইমকে দ্রুত চর্বি পরিপাকে সহায়তা করে।

২. চর্বি ও চর্বিদ্রাব্য ভিটামিন শোষণ

পিত্তলবণের উপস্থিতি ছাড়া চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং পানিতে অদ্রবণীয় চর্বিদ্রাব্য ভিটামিনসমূহ—যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে ক্ষুদ্রান্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা শোষিত হতে পারে না।

৩. পাকস্থলীর অ্যাসিড প্রশমন

পাকস্থলী থেকে ডুওডেনামে আসা অত্যন্ত অম্লীয় খাদ্যমণ্ডকে (Chyme) পিত্তরসের বাইকার্বোনেট আয়ন দ্রুত ক্ষারীয় রূপ দেয়, যা অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের এনজাইমগুলোর কাজের জন্য উপযুক্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

৪. বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন

দেহের ক্ষতিকর ও অতিরিক্ত উপাদান—যেমন লোহিত রক্তকণিকা ভাঙার ফলে সৃষ্ট বিলিরুবিন, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এবং ভারী ধাতুসমূহ (কপার) পিত্তরসের মাধ্যমে অন্ত্রে ক্ষরিত হয়ে মলের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

পিত্তরসের নিঃসরণ ও এন্টারোহেপাটিক সংবহন

  • হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ: ডুওডেনামে অম্লীয় ও চর্বিযুক্ত খাদ্য পৌঁছালে অন্ত্রের প্রাচীর থেকে কোলেসিস্টোকাইনিন (CCK) এবং সিক্রেটিন হরমোন নিঃসৃত হয়। সিসিকে (CCK) পিত্তথলিকে সংকুচিত করে এবং অ্যাম্পুলা অব ভাটারের স্ফিংক্টার অব ওডি (Sphincter of Oddi)-কে শিথিল করে পিত্তরস নিঃসরণ ঘটায়। সিক্রেটিন যকৃত থেকে বাইকার্বোনেটসমৃদ্ধ জলীয় পিত্ত নিঃসরণ বাড়ায়।
  • এন্টারোহেপাটিক সংবহন (Enterohepatic Circulation): ডুওডেনামে কাজ শেষ করার পর প্রায় ৯৫% পিত্তলবণ ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ বা টার্মিনাল ইলিয়াম থেকে পুনরায় শোষিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে পুনরায় যকৃতে ফিরে আসে। যকৃত এদের পুনরায় গ্রহণ করে নতুন পিত্তরসে ক্ষরণ করে। মাত্র ৫% পিত্তলবণ প্রতিদিন মলের সাথে নির্গত হয়, যা যকৃতে নতুন করে সংশ্লেষিত হয়।

চিকিৎসাগত গুরুত্ব ও রোগব্যাধি

১. পিত্তথলির পাথর (Gallstones / Cholelithiasis)

পিত্তরসে কোলেস্টেরল ও পিত্তলবণের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে অথবা পিত্তরসের স্থবিরতা দেখা দিলে পিত্তথলির অভ্যন্তরে কঠিন পাথর তৈরি হয়:

  • কোলেস্টেরল পাথর: অতিরিক্ত চর্বি বা স্থূলতার কারণে পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে স্ফটিক আকারে জমে পাথর তৈরি হয়।
  • পিগমেন্ট পাথর: অতিরিক্ত বিলিরুবিন জমার কারণে সৃষ্ট কালচে পাথর (যেমন ক্রনিক হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায়)।

২. পিত্তথলির প্রদাহ ও পিত্তনালীর রোগ

  • কোলেসিস্টাইটিস (Cholecystitis): পাথর দ্বারা পিত্তথলির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে পিত্তথলিতে তীব্র প্রদাহ ও সংক্রমণ সৃষ্টি হয়।
  • বিলিয়ারি কলিক: ফ্যাটি খাবার গ্রহণের পর পিত্তথলি সংকুচিত হলে পেটের ডান পাশের উপরিভাগে তীব্র খিল-ধরা ব্যথা সৃষ্টি হয়।
  • অবস্ট্রাক্টিভ জন্ডিস (Obstructive Jaundice): সাধারণ পিত্তনালী পাথরের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে গেলে পিত্তরস অন্ত্রে যেতে পারে না। ফলে রক্তে বিলিরুবিন জমা হয়ে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয় এবং মল মাটির মতো সাদাটে বা ফ্যাকাশে (Clay-colored stool) রূপ ধারণ করে।
  • কোল্যাঞ্জাইটিস (Cholangitis): পিত্তনালীতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী প্রদাহ।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ Bile – Biochemistry – Encyclopedia Britannica, ২০২০।
  2. ↑ Bile: MedlinePlus Medical Encyclopedia – U.S. National Library of Medicine, ২০২০।
  3. ↑ Bile Production - Constituents – TeachMePhysiology, ২০২০।