এনিমা (Enema / মলদ্বারীয় তরল প্রয়োগ)
এনিমা (Template:Lang-en, গ্রিক: Template:Lang-el বা énema) হলো একটি বহুল প্রচলিত ও প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি, যার মাধ্যমে পায়ুপথ ও মলাশয়ের (Rectum) মধ্য দিয়ে বিশেষায়িত তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ বৃহদন্ত্রে প্রবেশ করানো হয়।[1] এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী ও তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়, মলত্যাগ সহজীকরণ, এবং পেট ও অন্ত্রের অস্ত্রোপচার বা কোলোনোস্কোপির পূর্বে পরিপাকনালী সম্পূর্ণ পরিষ্কার (Bowel evacuation) করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে থেরাপিউটিক বা ডায়াগনস্টিক—উভয় উদ্দেশ্যেই এনিমা ব্যবহার করা হয়।
প্রধান উদ্দেশ্য ও প্রয়োগক্ষেত্র
এনিমা প্রয়োগের প্রধান কারণগুলো হলো:
- কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলবদ্ধতা দূরীকরণ (Evacuant Enema): সাধারণ ল্যাক্সেটিভ বা ওষুধে সাড়া না দিলে মলাশয়ে জমে থাকা শক্ত মল নরম করে দ্রুত বের করে দিতে এনিমা কার্যকর।
- চিকিৎসা প্রস্তুতিমূলক পরিচ্ছন্নতা: ল্যাপারোটমি, সিজারিয়ান সেকশন বা অন্ত্রের যেকোনো অস্ত্রোপচার এবং কোলোনোস্কোপি বা সিগময়েডোস্কোপি পরীক্ষার আগে অন্ত্র বর্জ্যমুক্ত করা।
- রোগ নির্ণয় (Diagnostic Enema): নিম্ন পরিপাকতন্ত্রের কোনো ক্ষত, আলসার বা টিউমার এক্স-রেতে নিখুঁতভাবে দেখার জন্য বেরিয়াম সালফেট মিশ্রিত তরল প্রয়োগ করা হয় (বেরিয়াম এনিমা)।
- ওষুধ প্রয়োগ (Retention Enema): কিছু বিশেষ ওষুধ—যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিসের জন্য অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি অন্ত্রের প্রাচীরে শোষিত হওয়ার জন্য প্রয়োগ করা হয়।
সরঞ্জাম ও প্রয়োগপদ্ধতি
আধুনিক চিকিৎসায় একক ব্যবহারের জন্য ডিসপোজেবল এনিমা কিট বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এনিমা ক্যান ব্যবহার করা হয়: ১. উপাদান ও প্রস্তুতি: একটি তরল ধারণকারী পাত্র (ক্যান বা ব্যাগ), একটি নমনীয় টিউব, প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী ক্ল্যাম্প এবং একটি মসৃণ রেকটাল নোজল। ২. লুব্রিকেশন: মলদ্বারের সংবেদনশীল টিস্যু ও স্ফিংক্টার পেশির আঘাত বা ঘর্ষণ রোধ করতে নোজলের মুখে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভেসলিন, কে-ওয়াই জেলি বা তেল লাগানো হয়। ৩. শারীরিক অবস্থান: রোগীকে সাধারণত বাম পাশে কাত করে (Sims' position) এবং ডান হাঁটু বুকের দিকে সামান্য ভাঁজ করে শোয়ানো হয়, যা সিগময়েড কোলনে তরল সহজে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ৪. তরল প্রবেশ ও ধরে রাখা: পাত্রটিকে রোগীর শরীর থেকে কিছুটা উঁচুতে (সাধারণত ১ থেকে ২ ফুট) ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে তরল মৃদু গতিতে মলাশয়ে প্রবেশ করে। তরল প্রবেশের পর রোগীকে কিছুক্ষণ (প্রায় ৫–১৫ মিনিট) মল আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে মল নরম হয়ে স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে আসে।
সতর্কতা ও সম্ভাব্য জটিলতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন অপ্রয়োজনীয় এনিমা ব্যবহার করা অনুচিত:
- ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা: অতিরিক্ত তরল প্রয়োগে রক্তে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা এলোমেলো হতে পারে।
- অন্ত্রের প্রাচীরে ক্ষত: নোজল অসাবধানতাবশত জোরে প্রবেশ করালে মলাশয়ের প্রাচীর কেটে যেতে পারে বা ছিদ্র (Bowel perforation) হতে পারে।
- অন্ত্রের প্রাকৃতিক সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ Cullingworth, C. J. A Manual of Nursing, Medical and Surgical, পৃ. ১৫৫।
