মাথার খুলি

From LTRC
Revision as of 22:40, 25 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{| class="infobox biota" style="text-align: left; width: 22em; font-size: 88%; line-height: 1.5em; border: 1px solid #a2a9b1; background-color: #f8f9fa; padding: 5px; margin: 0.5em 0 0.5em 1em; float: right; clear: right;" ! colspan="2" style="text-align: center; font-size: 125%; font-weight: bold; background-color: #e0e8f0; padding: 4px;" | মাথার খুলি / করোটি (Skull) |- | colspan="2" style="text-align: center;" | File:Human skull front simp...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
মাথার খুলি / করোটি (Skull)
মানুষের করোটি (সম্মুখ দৃশ্য) মানুষের করোটি (পার্শ্ব দৃশ্য)
মানুষের করোটি (সম্মুখ ও পার্শ্ব দৃশ্য)
শারীরস্থানিক বিবরণ
ল্যাটিন নাম: cranium
অংশ: অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) / মস্তক
মোট অস্থির সংখ্যা: ২২টি (শ্রবণ ক্ষুদ্রাস্থিসহ ২৮টি)
প্রধান বিভাগ: ক্রেনিয়াম বা মস্তিষ্কের আবরণী (৮টি) ও ভিসেরোক্রেনিয়াম বা মুখমণ্ডলের অস্থি (১৪টি)
সন্ধির ধরন: সিউচার (অচল তন্তুময় সন্ধি) ও সাইনোভিয়াল সন্ধি (ম্যান্ডিবল)
রক্ষিত অঙ্গসমূহ: মস্তিষ্ক, চোখ, অন্তঃকর্ণ ও ঘ্রাণেন্দ্রিয়

মাথার খুলি বা করোটি (Template:Lang-la, Template:Lang-en) হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কঙ্কালতন্ত্রের সবচেয়ে জটিল ও শক্ত অস্থিময় কাঠামো, যা মস্তকের মূল কাঠামো গঠন করে। এটি মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল অঙ্গ—যথা মস্তিষ্ক, চোখ, অন্তঃকর্ণ, নাক এবং মুখগহ্বরকে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং মুখের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। একমাত্র নিচের চোয়াল (ম্যান্ডিবল) ব্যতীত করোটির অন্যান্য সমস্ত অস্থি বিশেষ ধরনের অচল তন্তুময় সন্ধি বা 'সিউচার' (Suture) দ্বারা পরস্পরের সাথে শক্তভাবে সংযুক্ত থাকে।

শারীরস্থানিক গঠন ও অস্থির বিন্যাস

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের করোটি প্রধানত ২২টি পৃথক অস্থি নিয়ে গঠিত (মধ্যকর্ণের শ্রবণ ক্ষুদ্রাস্থিগুলো বিবেচনা করলে মোট সংখ্যা ২৮টি)। এটি দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

১. ক্রেনিয়াম বা করোটি গহ্বর (Neurocranium / Braincase)

মস্তিষ্ককে আবৃত করে সুরক্ষিত রাখা এই অংশে মোট ৮টি অস্থি রয়েছে:

  • ফ্রন্টাল অস্থি (Frontal bone - ১টি): কপাল ও অক্ষিকোটরের উপরের অংশ গঠন করে।
  • প্যারাইটাল অস্থি (Parietal bones - ২টি): করোটির ছাদ ও দুই পাশের উপরিভাগ গঠন করে।
  • টেম্পোরাল অস্থি (Temporal bones - ২টি): কানের চারপাশের পার্শ্বপ্রাচীর তৈরি করে এবং শ্রবণযন্ত্র ধারণ করে।
  • অক্সিপিটাল অস্থি (Occipital bone - ১টি): খুলির পেছনের ও নিচের মেঝে তৈরি করে; এতে অবস্থিত 'ফোরামেন ম্যাগনাম' রন্ধ্র দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্কের সাথে মিলিত হয়।
  • স্ফেনয়েড অস্থি (Sphenoid bone - ১টি): প্রজাপতি-আকৃতির ভিত্তিপ্রস্তর অস্থি, যা পিটুইটারি গ্রন্থিকে সুরক্ষিত রাখে।
  • এথময়েড অস্থি (Ethmoid bone - ১টি): নাসাগহ্বরের ছাদ ও অক্ষিকোটরের ভেতরের প্রাচীর গঠন করে।

২. মুখমণ্ডলের অস্থি (Viscerocranium / Facial Skeleton)

মুখের আকৃতি প্রদান ও চোয়াল গঠনে সহায়তা করা এই অংশে মোট ১৪টি অস্থি থাকে:

  • ম্যান্ডিবল (Mandible - ১টি): নিচের চোয়াল, যা করোটির একমাত্র নড়নক্ষম অস্থি এবং চর্বণে সহায়তা করে।
  • ম্যাক্সিলা (Maxillae - ২টি): ওপরের চোয়াল ও তালুর অগ্রভাগ গঠন করে।
  • জাইগোম্যাটিক অস্থি (Zygomatic bones - ২টি): গালের উঁচু অস্থি বা চিকবোন।
  • নাসিকা অস্থি (Nasal bones - ২টি): নাকের সেতু তৈরি করে।
  • ল্যাক্রিমাল অস্থি (Lacrimal bones - ২টি): অক্ষিকোটরের ক্ষুদ্রতম অস্থি, যা অশ্রুনালীর সাথে সম্পর্কিত।
  • প্যালাটাইন অস্থি (Palatine bones - ২টি): শক্ত তালুর পেছনের অংশ তৈরি করে।
  • ইনফিরিয়র ন্যাজাল কঙ্কা (Inferior nasal conchae - ২টি): নাসাগহ্বরের ভেতরের পার্শ্বপ্রাচীর গঠন করে।
  • ভোমার (Vomer - ১টি): নাসিকা ব্যবধায়কের (Nasal septum) পশ্চাৎ অংশ তৈরি করে।

অন্যান্য সংযুক্ত অংশ

  • শ্রবণ ক্ষুদ্রাস্থি (Auditory ossicles - ৬টি): উভয় মধ্যকর্ণের ভেতরে অবস্থিত ম্যালিয়াস (২টি), ইনকাস (২টি) ও স্টেপিস (২টি)।
  • হায়য়েড অস্থি (Hyoid bone): গলার স্বরযন্ত্রকে অবলম্বন প্রদানকারী ইউ-আকৃতির অস্থি, যা করোটির সাথে সরাসরি অস্থি-সন্ধিযুক্ত নয়।

শারীরবৃত্তীয় কাজ

  • মস্তিষ্কের সুরক্ষা: খুলির শক্ত অস্থিময় প্রাচীর মস্তিষ্ককে সরাসরি ভোঁতা ও তীক্ষ্ণ আঘাত থেকে রক্ষা করে।
  • সংবেদন অঙ্গের আধার: দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ ও স্বাদের প্রধান গ্রাহক অঙ্গগুলোকে উপযুক্ত শারীরস্থানিক প্রকোষ্ঠ প্রদান করে।
  • আহার ও শ্বাসক্রিয়া: চোয়াল ও দাঁতের সঞ্চালনের মাধ্যমে খাদ্য চর্বণ এবং শ্বাসনালীর উন্মুক্ত পথ সুনিশ্চিত করে।
  • মুখের অভিব্যক্তি: মুখের বিভিন্ন পেশির সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে মানুষের মানসিক ভাব প্রকাশে সাহায্য করে।

চিকিৎসাগত গুরুত্ব (Clinical Significance)

  • খুলির ফ্র্যাকচার (Skull fracture): সড়ক দুর্ঘটনা বা সরাসরি তীব্র আঘাতে খুলির অস্থি ফেটে যেতে পারে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (Epidural/Subdural hematoma) এবং মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
  • ক্র্যানিওসিনোস্টোসিস (Craniosynostosis): শিশুদের ক্ষেত্রে সিউচারগুলো সময়ের আগেই জোড়া লেগে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাথার অস্বাভাবিক বিকৃতি ঘটে।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিটি স্ক্যান (CT Scan) ও এক্স-রের মাধ্যমে করোটির আঘাত এবং টিউমার শনাক্ত করা হয়।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র