নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ

From LTRC
Revision as of 22:29, 25 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{{তথ্যছক চিকিৎসা অবস্থা | নাম = নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ | চিত্র = Henipavirus structure.svg | চিত্র_আকার = 220px | চিত্র_ক্যাপশন = হেনিপাভাইরাসের আণবিক গঠন | ক্ষেত্র = সংক্রামক রোগবিজ্ঞান (Infectious disease), ভাইরোলজি | লক্ষণ...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)

Template:তথ্যছক চিকিৎসা অবস্থা

নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ (Template:Lang-en) হলো নিপাহ ভাইরাস (Template:Lang-en, সংক্ষেপে NiV) দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী জুনোটিক ভাইরাসজনিত ব্যাধি। নিপাহ ভাইরাস হলো প্যারামিক্সোভিরিডি (Paramyxoviridae) পরিবারের অন্তর্গত হেনিপাভাইরাস (Henipavirus) গণের একটি নেগেটিভ-সেন্স একক-সূত্রক আরএনএ ভাইরাস। এই ভাইরাস প্রাণী (বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় ও শূকর) থেকে মানুষে এবং আক্রান্ত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্য সুস্থ মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। মানবদেহে সংক্রমণের পর এটি দ্রুত মস্তিষ্কে ছড়িয়ে তীব্র এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) এবং ফুসফুসে তীব্র শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে, যার ফলে মৃত্যুহার প্রায় ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত পৌঁছায়।

আবিষ্কার ও নামকরণ

১৯৯৮–১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ার নেগেরি সেমবিলান রাজ্যের 'সুঙ্গাই নিপাহ' (Sungai Nipah) গ্রামের শূকর খামারিদের মধ্যে সর্বপ্রথম এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। সেই গ্রামের নামানুসারেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয় "নিপাহ ভাইরাস"।[1] মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এই প্রথম প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতে (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল রাজ্যে) প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

প্রাকৃতিক বাহক ও সংক্রমণের মাধ্যম

  • প্রাকৃতিক জলাধার (Natural Reservoir): টেরোপোডিডি (Pteropodidae) পরিবারের ফলখেকো বড় বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাট (বিশেষ করে Pteropus গণের বাদুড়) হলো নিপাহ ভাইরাসের প্রধান প্রাকৃতিক বাহক। ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও বাদুড় নিজে অসুস্থ হয় না।
  • দূষিত খাবার গ্রহণ: শীতকালে বাদুড় যখন খেজুরের গাছে হাঁড়ি থেকে কাঁচা রস পান করে বা ফলমূল খায়, তখন তাদের লালা ও মূত্রের মাধ্যমে রস ও ফল দূষিত হয়। এই কাঁচা খেজুরের রস পান করলে বা বাদুড়ে খাওয়া আধা-খাওয়া ফল খেলে মানুষ সহজেই সংক্রমিত হয় (বাংলাদেশ ও ভারতে প্রধান সংক্রমণ পথ)।
  • মধ্যবর্তী পোষক প্রাণী: খামারের শূকর, বিড়াল বা অন্যান্য গবাদিপশু বাদুড়ের সংস্পর্শে এসে সংক্রামিত হলে তাদের লালা ও শ্লেষ্মার মাধ্যমে খামারিদের মধ্যে ছড়ায়।
  • মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ: আক্রান্ত রোগীর রক্ত, থুতু, লালা, মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসাসেবা কর্মীদের মধ্যে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রোগের লক্ষণ ও জটিলতা

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সুপ্তিকাল (Incubation period) সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিন হয়:

  • প্রাথমিক লক্ষণ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচন্ড মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, গলা ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাব।
  • শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা: কাশি, বুক চেপে আসা এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট (Atypical pneumonia / ARDS)।
  • স্নায়বিক জটিলতা: বিভ্রান্তি, প্রলাপ বকা, ভারসাম্যহীনতা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং খিঁচুনি।
  • তীব্র সংক্রমণ দ্রুত এনসেফালাইটিসে রূপ নেয় এবং লক্ষণ শুরুর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

  • রোগ নির্ণয়: গলা ও নাকের সোয়াব, প্রস্রাব, রক্ত বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) থেকে রিয়েল-টাইম রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ পিসিআর (RT-PCR) এবং রক্তের সিরামের ELISA পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
  • চিকিৎসা ব্যবস্থা:
    • নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনও নেই।
    • নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) রেখে রোগীকে মূলত সহায়ক ও লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা (Supportive care) প্রদান করা হয়।
    • মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি (যেমন: m102.4) ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নিয়ে ক্লিনিকাল ট্রায়াল ও গবেষণা চলমান রয়েছে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • গাছ থেকে সংগৃহীত কাঁচা বা অপ্রক্রিয়াজাত খেজুরের রস পান করা সম্পূর্ণ পরিহার করা (রস ফুটিয়ে পান করা নিরাপদ)।
  • বাদুড় বা পাখির মুখ দেওয়া বা মাটিতে পড়ে থাকা আংশিক খাওয়া ফল না খাওয়া।
  • ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া।
  • আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় চিকিৎসাকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (PPE), মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া।
  • মৃত রোগীর দাফন বা সৎকারের সময় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

শ্রেণী:ভাইরাস শ্রেণী:আরএনএ ভাইরাস শ্রেণী:জুনোটিক রোগ শ্রেণী:সংক্রামক রোগ শ্রেণী:প্যারামিক্সোভিরিডি