জিকা ভাইরাস

From LTRC
Revision as of 22:28, 25 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{{শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা | নাম = জিকা ভাইরাস | চিত্র = Zika EM CDC 280116.tiff | চিত্র_প্রস্থ = 250px | চিত্র_ক্যাপশন = জিকা ভাইরাসের ইলেক্ট্রন মাইক্রোগ্রাফ; ভাইরাস কণাগুলো প্রায় ৪০ ন্যানোমিটার ব্যাসবিশিষ্...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)

Template:শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা

জিকা ভাইরাস (Template:Lang-en, সংক্ষেপে ZIKV) হলো ফ্ল্যাভিভিরিডি (Flaviviridae) পরিবার এবং ফ্ল্যাভিভাইরাস (Flavivirus) গণের অন্তর্ভুক্ত একটি মশাবাহিত একক-সূত্রক পজিটিভ-সেন্স আরএনএ ভাইরাস। এটি প্রধানত সংক্রামিত স্ত্রী এডিস মশা (বিশেষত Aedes aegypti এবং Aedes albopictus) দ্বারা ছড়ায়, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও হলুদ জ্বরের (Yellow fever) ভাইরাসও বহন করে।

জিকা ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটলে নবজাতক অস্বাভাবিক ছোট মাথা বা মস্তিষ্ক বিকৃতিজনিত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) বলা হয়। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বিরল স্নায়ুরোগ গুলেন-বারে সিন্ড্রোমের (Guillain-Barré syndrome) ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আবিষ্কার ও ঐতিহাসিক বিস্তার

  • প্রাথমিক শনাক্তকরণ (১৯৪৭): ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনাঞ্চলে হলুদ জ্বর নিয়ে গবেষণাকালে একটি রেসাস বানরের রক্তে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়ায় মানুষের দেহে প্রথম জিকা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয়।
  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তার: কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে মৃদু প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ২০০৭ সালে মাইক্রোনেশিয়ার ইয়াপ দ্বীপে এবং ২০১৩–১৪ সালে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় এর ব্যাপক সংক্রমণ ঘটে।
  • আমেরিকান প্রাদুর্ভাব (২০১৫–২০১৬): ২০১৫ সালের শুরুতে ব্রাজিলে জিকা ভাইরাস মারাত্মক মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য নবজাতকের মাইক্রোসেফালি শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জিকা ভাইরাসকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এটি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া সহ লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবহন ও সংক্রমণের মাধ্যম

  1. মশার কামড়: সংক্রামিত এডিস মশার লালারসের মাধ্যমে কামড়ের দ্বারা প্রধানত ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে।
  2. মাতৃগর্ভ থেকে ভ্রূণে (Vertical transmission): গর্ভবতী মায়ের প্লাসেন্টা ও অ্যামনিওটিক তরলের মাধ্যমে সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুকলায় পৌঁছে মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।
  3. যৌন মিলন: আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য, যোনি তরল বা শারীরিক মেলামেশার মাধ্যমে যৌন সংবহন ঘটতে পারে।
  4. রক্ত সঞ্চালন: রক্ত বা রক্তজাত উপাদান গ্রহণের মাধ্যমেও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঘটতে পারে।

লক্ষণ ও ক্লিনিকাল প্রকাশ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৮০% ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না (asymptomatic)। লক্ষণ দেখা দিলে সংক্রমণের ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তা সাধারণত মৃদুভাবে প্রকাশ পায়:

  • মৃদু জ্বর ও শরীরে ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ (Maculopapular rash)
  • কনজাংটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া ও জ্বালাপোড়া)
  • অস্থিসন্ধি বা গাঁটে ব্যথা (Arthralgia) ও পেশিতে ব্যথা (Myalgia)
  • মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা

স্নায়বিক জটিলতা

  • কনজেনিটাল জিকা সিন্ড্রোম: ভ্রূণীয় মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধ্বংসের ফলে মাইক্রোসেফালি, অন্ধত্ব, বধিরতা ও স্থায়ী মানসিক বিকাশহীনতা সৃষ্টি হয়।
  • গুলেন-বারে সিন্ড্রোম: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজস্ব প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ চালায়, যার ফলে হাত-পায়ের পেশি অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত (paralysis) হতে পারে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

  • রোগ নির্ণয়: সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় রক্ত বা মূত্রের আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাল আরএনএ শনাক্ত করা হয়। এছাড়া রক্তে জিকা-নির্দিষ্ট IgM অ্যান্টিবডি নির্ণয়ে সেরোলজিক্যাল (ELISA) পরীক্ষা করা হয়।
  • চিকিৎসা ও সেবা:
    • জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই; চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক (supportive care)।
    • প্রচুর পরিমাণে তরল ও পানীয় গ্রহণ করে পানিশূন্যতা রোধ করা এবং পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
    • জ্বর ও ব্যথা উপশমে প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) সেবন করা নিরাপদ।
    • ডেঙ্গু নিশ্চিতভাবে নাকচ না হওয়া পর্যন্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি এড়াতে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্যান্য নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রতিরোধ ও ভ্যাকসিনের গবেষণা

  • মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা।
  • বাসাবাড়ির চারপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা।
  • প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণকালে গর্ভবতী নারীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা।
  • ভারতের হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ভারত বায়োটেক 'জিকাভ্যাক' (ZikaVac) নামে বিশ্বমানের জিকা ভ্যাকসিনের প্রাক-ক্লিনিকাল ও ক্লিনিকাল গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র


শ্রেণী:ভাইরাস শ্রেণী:মশাবাহিত রোগ শ্রেণী:ফ্ল্যাভিভিরিডি শ্রেণী:আরএনএ ভাইরাস শ্রেণী:সংক্রামক রোগ