কোভিড-১৯ টিকা

From LTRC
Revision as of 22:26, 25 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{| class="infobox" style="width:22em; text-align:left; font-size:88%; line-height:1.5em; border:1px solid #a2a9b1; background-color:#f8f9fa; padding:5px;" ! colspan="2" style="text-align:center; font-size:125%; font-weight:bold; background-color:#b0c4de; padding:5px;" | কোভিড-১৯ টিকা |- | colspan="2" style="text-align:center;" | চিত্র:SARS-CoV-2 without background.png|220px|সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের চিত...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
কোভিড-১৯ টিকা
220px|সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের চিত্র
সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2) ভাইরাসের গঠন
লক্ষ্যিত রোগ কোভিড-১৯
লক্ষ্যিত প্যাথোজেন সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2)
টিকার ধরন এমআরএনএ (mRNA), ভাইরাল ভেক্টর, নিষ্ক্রিয় ভাইরাস, প্রোটিন সাবইউনিট
প্রয়োগের পথ ইন্ট্রামাসকুলার (মাংসপেশিতে ইনজেকশন)
প্রথম অনুমোদন ২০২০ সালের শেষভাগে

কোভিড-১৯ টিকা (ইংরেজি: COVID-19 vaccine) হলো এমন এক ধরনের টিকা যা মানুষের শরীরে সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2) ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Acquired immunity) গড়ে তোলে। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারীর পূর্বেও করোনাভাইরাসের গঠন এবং কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল, যা বিভিন্ন প্রযুক্তির টিকা দ্রুত উদ্ভাবনে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।[1] ২০২১ সালের মে মাস নাগাদ বিশ্বব্যাপী অন্তত ১৪টি টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করে এবং প্রায় ৬০টিরও বেশি টিকা বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষণ পর্যায়ে ছিল।[2]

বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের মে মাসের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১৫ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়।[3] ভারতে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল (যার মধ্যে তেলঙ্গানায় ৫১ লাখ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ১ লাখ)।[4] ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নত দেশ ভবিষ্যতের জন্য ১,০০০ কোটি ডোজের বেশি টিকার আগাম বুকিং সম্পন্ন করেছিল, যার প্রায় অর্ধেকই ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪% প্রতিনিধিত্বকারী উচ্চ আয়ের দেশগুলোর জন্য।[5]

পরিকল্পনা ও উদ্ভাবন

২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের অভূতপূর্ব সহযোগিতার মাধ্যমে টিকা উদ্ভাবনের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়।[6] 'কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস' (CEPI)-এর সমীক্ষা অনুসারে, প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী টিকা গবেষণার প্রায় ৪০% উত্তর আমেরিকায়, ৩০% এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায়, ২৬% ইউরোপে এবং বাকি অংশ দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় পরিচালিত হয়েছিল।[7]

জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে টিকার স্বাভাবিক সময়সীমা সংকুচিত করা হয়। সাধারণত যেখানে একটি টিকা তৈরি ও অনুমোদনে কয়েক বছর সময় লাগে, সেখানে বিভিন্ন ট্রায়াল বা পরীক্ষার ধাপগুলো সমান্তরালভাবে চালিয়ে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।[8]

অ্যাক্সেস টু কোভিড-১৯ টুলস (ACT) ও কোভ্যাক্স

বিশ্বের সব দেশের মানুষের কাছে সমানভাবে টিকা ও চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে "অ্যাক্সেস টু কোভিড-১৯ টুলস" (ACT) অ্যাক্সিলারেটর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর অধীনে মূলত চারটি প্রধান স্তম্ভ ছিল:

  • রোগ নির্ণয় (Diagnostics)
  • চিকিৎসা ব্যবস্থা (Therapeutics)
  • টিকা বণ্টন বা কোভ্যাক্স সুবিধা (COVAX Pillar)
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়[9]

টিকা তৈরির ধাপ

একটি কার্যকর টিকা প্রস্তুত করতে মূলত নিম্নলিখিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়:

  1. জিনোম বিশ্লেষণ: প্রথমে ভাইরাসের সামগ্রিক শারীরিক গঠন, স্পাইক প্রোটিন এবং ডিএনএ (DNA) বা আরএনএ (RNA) কাঠামো বিশ্লেষণ ও শনাক্ত করা হয়।
  2. প্রাক-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল: মানবদেহের বাইরে ল্যাবরেটরিতে এবং বিভিন্ন প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়।
  3. মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (৩টি ধাপ):
    • প্রথম ধাপ (Phase I): অল্পসংখ্যক সুস্থ মানুষের দেহে নিরাপত্তা ও উপযুক্ত ডোজের মাত্রা পরীক্ষা করা।
    • দ্বিতীয় ধাপ (Phase II): শত শত মানুষের দেহে প্রয়োগ করে অ্যান্টিবডি তৈরি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই।
    • তৃতীয় ধাপ (Phase III): হাজার হাজার মানুষের ওপর বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রকৃত কার্যকারিতা প্রমাণ করা।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ Li, Yen-Der; Chi, Wei-Yu; Su, Jun-Han; Ferrall, Louise; Hung, Chien-Fu; Wu, T.-C. (2020-12-20). "Coronavirus vaccine development: from SARS and MERS to COVID-19". Journal of Biomedical Science. 27: 104. doi:10.1186/s12929-020-00695-2.
  2. ↑ "COVID-19 vaccine tracker". Regulatory Affairs Professionals Society (RAPS). 2021-05-08. https://www.raps.org/news-and-articles/news-articles/2020/3/covid-19-vaccine-tracker
  3. ↑ "Coronavirus (COVID-19) Vaccinations - Statistics and Research". Our World in Data. 2021-05-08. https://ourworldindata.org/covid-vaccinations
  4. ↑ "#IndiaFightsCorona COVID-19". MyGov.in. 2021-05-08. https://mygov.in/covid-19/
  5. ↑ Mullard, Asher (2020-11-30). "How COVID vaccines are being divvied up around the world". Nature. doi:10.1038/d41586-020-03370-6.
  6. ↑ Le, Tung Thanh; Cramer, Jakob P.; Chen, Robert; Mayhew, Stephen (2020-09-04). "Evolution of the COVID-19 vaccine development landscape". Nature Reviews Drug Discovery. 19 (10): 667–668. doi:10.1038/d41573-020-00151-8.
  7. ↑ Le, Tung Thanh; Andreadakis, Zacharias; Kumar, Arun; Román, Raúl Gómez; Tollefsen, Stig; Saville, Melanie; Mayhew, Stephen (2020-04-09). "The COVID-19 vaccine development landscape". Nature Reviews Drug Discovery. 19 (5): 305–306. doi:10.1038/d41573-020-00073-5.
  8. ↑ "Corona Vaccine: ఆగస్టు 15న భారత్‌లో కరోనా వ్యాక్సిన్!". Zee News Telugu. 2020-07-03. https://zeenews.india.com/telugu/india/india-first-coronavirus-vaccine-to-be-launched-on-august-15-22902
  9. ↑ "190 దేశాలకు వాక్సిన్ అందించే COVAX ఒప్పందం". FACTLY. 2021-01-11. https://factly.in/telugu-covax-agreement-between-190-countries-is-misconstrued-as-that-for-the-vaccine-being-developed-in-india/

বিষয়শ্রেণী:Covid-19 vaccine বিষয়শ্রেণী:কোভিড-১৯ টিকা বিষয়শ্রেণী:টিকা বিষয়শ্রেণী:কোভিড-১৯ মহামারী বিষয়শ্রেণী:সংক্রামক ব্যাধি