স্টেম সেল

From LTRC
Revision as of 22:19, 25 August 2026 by Sourav001 (talk | contribs) (Created page with "{{তথ্যছক কোষ | নাম = স্টেম সেল / মূল কোষ | লাতিন = Cellula praecursoria | চিত্র = MSC high magnification.jpg | চিত্র_ক্যাপশন = মেসেনকাইমাল স্টেম সেলের ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোগ্রাফ (Transmission Electron Micrograph) | চিত্র_প্রস্থ = 250px | প্...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)

Template:তথ্যছক কোষ

স্টেম সেল (ইংরেজি: Stem cell) বা মূল কোষ হলো বহুকোষী জীবে উপস্থিত এমন কিছু অবিভেদ্য বা অনির্দিষ্ট কোষ, যা ক্রমাগত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নিজের মতো আরও মূল কোষ তৈরি করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সংকেতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কোষে রূপান্তরিত হতে সক্ষম।[1] মানবদেহে বা অন্যান্য জীবে স্টেম সেলগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ মেরামত ব্যবস্থা (Internal repair system) হিসেবে কাজ করে টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষয়পূরণ ঘটায়।[2]

বৈশিষ্ট্য

স্টেম সেলের প্রধান কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরের অন্যান্য কোষ থেকে একে পৃথক করে:

  1. স্ব-পুনরুৎপাদন (Self-renewal): এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কোষ বিভাজনের (Cell division) মাধ্যমে নিজেদের অবিকল প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
  2. অবিশেষায়িত প্রকৃতি (Unspecialized nature): প্রাথমিকভাবে এদের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোগত ভূমিকা থাকে না; অর্থাৎ এগুলো সরাসরি কোনো একক শারীরবৃত্তীয় কাজ করে না।
  3. পৃথকীকরণের ক্ষমতা (Differentiation potency): যথাযথ রাসায়নিক ও শারীরিক উদ্দীপনায় এগুলো পেশিকোষ, রক্তকোষ, স্নায়ুকোষ বা অস্থিকোষের মতো নির্দিষ্ট কার্যক্ষম কোষে রূপান্তরিত হতে পারে।[1]

প্রকারভেদ

উৎস ও ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে স্টেম সেলকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ভ্রূণীয় স্টেম সেল (Embryonic Stem Cells): মানব ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের পর্যায় (ব্লাস্টোসিস্ট) থেকে সংগৃহীত হয়। এগুলো প্লুরিপোটেন্ট (Pluripotent), অর্থাৎ শরীরের প্রায় সব ধরনের কোষে রূপান্তরিত হতে পারে।
  • প্রাপ্তবয়স্ক বা অ্যাডাল্ট স্টেম সেল (Adult Stem Cells / Somatic Stem Cells): পূর্ণাঙ্গ মানবদেহের বিভিন্ন কলা বা অঙ্গে (যেমন—অস্থিমজ্জা, চর্বি কলা) সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এগুলো মূলত যে অঙ্গে থাকে, সেই অঙ্গের নির্দিষ্ট কোষ উৎপাদনে সক্ষম (Multipotent)।
  • নাভির রজ্জু ও গর্ভফুলের স্টেম সেল (Cord Blood Stem Cells): সন্তান প্রসবের পর নাভির রজ্জু (Umbilical cord) এবং প্লাসেন্টা থেকে রক্ত সংগ্রহ করে এই বিশেষ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

চিকিৎসা ও গবেষণা

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণায় স্টেম সেলের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি, স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয়রোধে স্টেম সেল কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা চলছে।[1]

চিকিৎসাক্ষেত্রে স্টেম সেলের বৈচিত্র্যময় ব্যবহারের ফলে টিস্যুর সামঞ্জস্য বা জিনগত পার্থক্যের জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে কম বাধা সৃষ্টি করে।[3]

গবেষণার ইতিহাস

১৯৬০-এর দশকে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্টারিও ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষক আর্নেস্ট ম্যাককুলোক (Ernest McCulloch) এবং জেমস টিল (James Till)-এর যুগান্তকারী কাজের মাধ্যমে স্টেম সেলের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।[4][5]

চিকিৎসায় বহুলভাবে স্বীকৃত স্টেম সেল থেরাপি হলো হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল প্রতিস্থাপন (Hematopoietic Stem Cell Transplantation / অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন)।[6] ১৯৫৮ সালে ফরাসি অনকোলজিস্ট জর্জেস ম্যাথে (Georges Mathé) এটি প্রথম প্রয়োগ করেন।

স্টেম সেল ব্যাংকিং ও ওষুধ তৈরি

বর্তমানে প্রসবের সময় নাভির রজ্জু এবং গর্ভফুল প্রক্রিয়াজাত করে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের জন্য এসব কোষকে স্টেম সেল ব্যাংকে প্রায় **-১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-196°C)** তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ (Cryopreservation) করা হয়। কোষীয় পুনর্জন্মের জন্য স্টেম সেল থেকে উন্নত ক্রিম, সিরাম এবং ইনজেকশন তৈরি নিয়েও বাণিজ্যিক ও ক্লিনিকাল গবেষণা চলছে।[3]

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

Template:তথ্যসূত্র তালিকা

বিষয়শ্রেণী:স্টেম সেল বিষয়শ্রেণী:কোষ জীববিজ্ঞান বিষয়শ্রেণী:চিকিৎসাবিজ্ঞান