প্রায়-বিপদগ্রস্ত প্রজাতি
Template:তথ্যছক সংরক্ষণ অবস্থা
প্রায়-বিপদগ্রস্ত প্রজাতি (Template:Lang-en, সংক্ষেপে NT) হলো আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) কর্তৃক প্রণীত আইইউসিএন লাল তালিকার একটি সংরক্ষণ বিভাগ। যখন কোনো জীবপ্রজাতি (উদ্ভিদ, প্রাণী বা অণুজীব) বর্তমান মূল্যায়নে মহাবিপন্ন (CR), বিপন্ন (EN) বা ঝুঁকিপূর্ণ (VU)—কোনো সংকটাপন্ন (Threatened) স্তরের নির্দিষ্ট মানদণ্ডে সরাসরি পড়ে না, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে উপযুক্ত সংরক্ষণ পদক্ষেপ না নিলে সংকটাপন্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে, তখন সেটিকে 'প্রায়-বিপদগ্রস্ত' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।[1]
ঐতিহাসিক বিবর্তন ও শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো
২০০১ সালের পূর্বে আইইউসিএন-এর সংস্করণ ২.৩ (১৯৯৪) কাঠামো অনুসারে, এই বিভাগটিকে "নিম্ন ঝুঁকি" (Lower Risk - LR) বিভাগের অধীনে একটি উপ-শ্রেণি হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং একে LR/nt দ্বারা প্রকাশ করা হতো। একই সাথে সংরক্ষণ কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল প্রজাতির জন্য পৃথক একটি উপ-শ্রেণি ছিল, যাকে বলা হতো "সংরক্ষণের ওপর নির্ভরশীল" (LR/cd)।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে নির্দেশিকা সংস্করণ ৩.১ প্রবর্তিত হলে পূর্বের 'LR/nt' উপ-বিভাগটিকে স্বাধীন পূর্ণাঙ্গ ক্যাটাগরি হিসেবে উন্নীত করে আনুষ্ঠানিকভাবে NT (Near Threatened) নাম দেওয়া হয়। একই সাথে বিলুপ্ত হওয়া 'LR/cd' বিভাগের অধিকাংশ প্রজাতিকেও এই 'NT' বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রায়-বিপদগ্রস্ত হিসেবে মূল্যায়নের মানদণ্ড
একটি প্রজাতিকে আইইউসিএন নির্দেশিকা অনুসারে 'প্রায়-বিপদগ্রস্ত' (NT) হিসেবে বিবেচনা করার প্রধান কারণসমূহ:
- প্রজাতির মোট সংখ্যা ও প্রজননক্ষম সদস্য দ্রুত হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ দেখা যাওয়া, যা ঝুঁকিপূর্ণ (Vulnerable) স্তরের সীমার কাছাকাছি।
- ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক বাসস্থান সংকোচন বা বিভাজনের শিকার হওয়া।
- প্রজাতিটির জনসংখ্যা বর্তমানে কোনো চলমান নিবিড় বাসস্থান সুরক্ষা বা কৃত্রিম সংরক্ষণ কার্যক্রমের কারণে টিকে থাকা; যা বন্ধ হলে প্রজাতিটি সরাসরি বিপন্ন স্তরে চলে যাবে।
উল্লেখযোগ্য প্রায়-বিপদগ্রস্ত প্রজাতিসমূহ
- স্তন্যপায়ী: ইউরোপীয় ভোঁদড় (Lutra lutra), চিতাবাঘ (লেপার্ড), সাদা গণ্ডার (White rhinoceros), জাগুয়ার, নারহোয়াল।
- পাখি: লাল চিল (Red kite), হার্পি ঈগল, কালো চিবুকযুক্ত হামিংবার্ড।
- জলজ ও সরীসৃপ: বাঘ হাঙ্গর (Tiger shark), নীল পাখনাযুক্ত টুনা মাছ।
- উদ্ভিদ ও বৃক্ষকুল: হিমালয়ান ইয়েউ (Himalayan yew) এবং দক্ষিণ আমেরিকার মেহগনি গাছের কিছু প্রজাতি।
গুরুত্ব ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা
প্রায়-বিপদগ্রস্ত স্তরে থাকা প্রজাতিগুলো হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি "আগাম সতর্কবার্তা" (early warning signal)। এই প্রজাতিগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো:
- জনসংখ্যা হঠাৎ হ্রাস পাওয়ার পূর্বেই কারণ চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- প্রজাতিটি যাতে সরাসরি 'বিপন্ন' বা 'মহাবিপন্ন' স্তরে পতিত না হয়, সেজন্য বাসস্থান সংরক্ষণ ও শিকার নিয়ন্ত্রণের আগাম পরিকল্পনা তৈরি করা।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ 2001 Categories & Criteria (version 3.1) – The IUCN Red List of Threatened Species, ২০০১।
শ্রেণী:সংরক্ষণ অবস্থা শ্রেণী:জীববিজ্ঞান শ্রেণী:বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শ্রেণী:বাস্তুসংস্থান
