বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত
Template:তথ্যছক সংরক্ষণ অবস্থা
বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (Template:Lang-en, সংক্ষেপে EW) হলো আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) কর্তৃক প্রণীত আইইউসিএন লাল তালিকার একটি অন্যতম সংকটজনক সংরক্ষণ স্তর। যখন কোনো জীবপ্রজাতির (উদ্ভিদ বা প্রাণী) সর্বশেষ জীবিত স্বতন্ত্র সদস্যটি তার ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক বাসস্থান থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং প্রজাতিটি কেবল কৃত্রিম বন্দিদশা, চিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান (botanical garden) অথবা নিজস্ব ঐতিহাসিক ভৌগোলিক সীমার বাইরের কোনো নিয়ন্ত্রিত স্থানে বেঁচে থাকে, তখন তাকে 'বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।[1]
মূল্যায়নের বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড
আইইউসিএন-এর মানদণ্ড অনুসারে, একটি ট্যাক্সনকে তখনই 'বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত' ঘোষণা করা হয় যখন:
- প্রজাতিটির ঐতিহাসিক বাসস্থান ও পরিচিত ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে উপযুক্ত ঋতু ও সময়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালানোর পরও বন্য পরিবেশে কোনো জীবিত সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায় না।
- এদের অস্তিত্ব কেবলমাত্র মানব-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ (যেমন: ক্যাপটিভ ব্রিডিং সেন্টার, অ্যাকোয়ারিয়াম, জার্মপ্লাজম ব্যাংক বা চিড়িয়াখানা) অথবা মূল ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে স্থানান্তরিত নিয়ন্ত্রিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
উল্লেখযোগ্য বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত প্রজাতিসমূহ
- প্রাণীজগৎ:
- হাওয়াইয়ান কাক (Corvus hawaiiensis): স্থানীয়ভাবে 'আলালা' নামে পরিচিত এই পাখিটি ২০০২ সাল থেকে হাওয়াইয়ের বনাঞ্চলে পুরোপুরি বিলুপ্ত; কেবল নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কেন্দ্রে এটি সংরক্ষিত রয়েছে।
- স্কিমিটার-হর্নড ওরিক্স (Oryx dammah): উত্তর আফ্রিকার মরু অঞ্চলে বাস করা এই অ্যান্টিলোপটি অতি-শিকারের কারণে ২০০০ সালে বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত ঘোষিত হয় (পরবর্তীতে চাদে নিয়ন্ত্রিত পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচি শুরু হয়)।
- স্পিক্স ম্যাকাও (Cyanopsitta spixii): ব্রাজিলের এই নীল তোতাপাখিটি বাসস্থান ধ্বংস ও অবৈধ শিকারের কারণে ২০০০ সাল নাগাদ বন্য পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- সোকোরো ঘুঘু (Zenaida graysoni): মেক্সিকোর সোকোরো দ্বীপে বন্য অবস্থায় আর এদের দেখা মেলে না।
- উদ্ভিদজগৎ:
- Franklinia alatamaha: জর্জিয়ার আলতামাহা নদীর তীর থেকে বিলুপ্ত হওয়া একটি চা পরিবারের উদ্ভিদ, যা কেবল চাষকৃত বাগানে টিকে আছে।
- Encephalartos woodii: নাটাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষিত এক ধরনের বিরল সাইকাড প্রজাতি, যার বুনো উদ্ভিদের অস্তিত্ব নেই।
সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রবর্তন উদ্যোগ
'বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত' প্রজাতিগুলোকে পুনরায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়:
- ক্যাপটিভ ব্রিডিং ও জেনেটিক ব্যবস্থাপনা: জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রেখে চিড়িয়াখানা ও অভয়ারণ্যে প্রজাতিটির সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
- পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচি (Reintroduction Programs): প্রাকৃতিক আবাসের হুমকি (যেমন: শিকারী প্রাণী দমন, বন উজাড় রোধ) দূর করার পর কৃত্রিম প্রজননকৃত প্রাণীদের ধাপে ধাপে তাদের আদি বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা।
- আইনি সুরক্ষা: বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধ আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ মাত্রার আইনি নিরাপত্তা প্রদান।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ 2001 IUCN Red List Categories and Criteria: Version 3.1 – IUCN, ২০০১।
শ্রেণী:সংরক্ষণ অবস্থা শ্রেণী:জীববিজ্ঞান শ্রেণী:বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শ্রেণী:বাস্তুসংস্থান
