অ্যারিসিন (Aricine)

From LTRC
Revision as of 17:08, 23 August 2026 by Digantasen (talk | contribs) (Created page with "{{Chembox | Name = অ্যারিসিন (Aricine) | ImageFile = Aricine_drawing.jpg | ImageSize = 250px | ImageCaption = অ্যারিসিনের 2D রেখাচিত্র | IUPACName = Methyl (1S,15S,16S,20S)-7-methoxy-16-methyl-17-oxa-3,13-diazapentacyclo[11.8.0.0^{2,10}.0^{4,9}.0^{15,20}]henicosa-2(10),4(9),5,7,18-pentene-19-carboxylate | OtherNames = সিনকোভাটিন (Cinchovatine), হেটেরোফিলিন (Heterophylline)...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)

Template:Chembox

অ্যারিসিন (ইংরেজি: Aricine) হলো একটি ইয়োহিম্বান অ্যালকালয়েড (Yohimban alkaloid) এবং মিথাইল এস্টার। এটি মূলত বিভিন্ন উদ্ভিদ, যেমন- আর্টোকার্পাস, রাউভোলফিয়া কিউবানা এবং অন্যান্য কিছু জীব থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাকৃতিক উপাদান।[1] অ্যারিসিন আরও কয়েকটি নামে পরিচিত, যার মধ্যে সিনকোভাটিন (Cinchovatine) এবং হেটেরোফিলিন (Heterophylline) অন্যতম।[2] এটি মূলত সাদা সিনকোনা গাছের বাকল থেকে পাওয়া যায়।[3] পাশাপাশি, এটি রাউভোলফিয়া ভোমিটোরিয়া আফজেল (Rauvolfia vomitoria Afzel) নামক ঔষধি উদ্ভিদ থেকেও নিষ্কাশন করা হয়।[4]

রাউভোলফিয়া ভোমিটোরিয়া উদ্ভিদ এবং অ্যারিসিন

নাইজেরিয়া থেকে সংগৃহীত রাউভোলফিয়া ভোমিটোরিয়া গাছের পাতায় অন্তত ছয়টি অ্যালকালয়েড পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনটি হলো ইন্ডোল ডেরিভেটিভ (অ্যারিসিন, টেট্রাহাইড্রোঅ্যালস্টোনিন এবং আইসোরেসারপাইলিন) এবং বাকি তিনটি হলো আলফা-অক্সিন্ডোল ধরনের আইসোমার (ক্যারাপানাউবিন, রাউভক্সিন এবং রাউভক্সিনিন)। রাউভক্সিন এবং রাউভক্সিনিন হলো নতুন অ্যালকালয়েড। উল্লেখ্য, এই গাছের পাতায় রেসারপাইন থাকে না।[5]

রাসায়নিক গঠন

অ্যারিসিন অণুর একটি জটিল রাসায়নিক গঠন রয়েছে। এতে একটি পিরিডিন রিং, একটি টেট্রাহাইড্রোফুরান রিং এবং একটি ল্যাকটোন রিং রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, অ্যারিসিন অণুতে ৫৮টি বন্ধন থাকে, যার মধ্যে ৩২টি নন-হাইড্রোজেন বন্ধন, ১২টি মাল্টিপল বন্ধন, ৩টি ঘূর্ণনযোগ্য বন্ধন এবং ১০টি অ্যারোমেটিক বন্ধন উল্লেখযোগ্য।[6]

নিষ্কাশন পদ্ধতি

রাউভোলফিয়া কিউবানা গাছের কাণ্ডের বাকলের ইথানোলিক নির্যাস থেকে অন্যান্য অ্যালকালয়েডের (যেমন: টেট্রাহাইড্রোঅ্যালস্টোনিন, আজমালিন ইত্যাদি) সাথে অ্যারিসিন নিষ্কাশন করা হয়।[7]

এছাড়া ম্যাসিরেশন (Maceration), সক্সহ্লেট নিষ্কাশন (Soxhlet extraction) এবং আল্ট্রাসাউন্ড-সহায়ক নিষ্কাশন পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যানোনা গ্ল্যাব্রা (Annona glabra) গাছের বাকল থেকেও অ্যারিসিন সংগ্রহ করা যায়। নিষ্কাশন পদ্ধতির কার্যকারিতা মূলত পরিবেশ এবং দ্রাবকের ওপর নির্ভর করে। তবে জৈব দ্রাবক ব্যবহারে পরিবেশগত ঝুঁকি থাকতে পারে।[8]

ভৌত ধর্ম

অ্যারিসিন মূলত একটি কঠিন পাউডার জাতীয় পদার্থ।

  • আণবিক ভর: ৩৮২.৪৫ গ্রাম/মোল
  • ঘনত্ব: ১.৩ ± ০.১ গ্রাম/সেমি³ (আনুমানিক)
  • স্ফুটনাঙ্ক: ৫৫৩.০ ± ৫০.০ °C
  • প্রতিসরাঙ্ক: ১.৬৪৪
  • বাষ্পচাপ: ০.০ ± ১.৫ মি.মি. পারদ (২৫ °C তাপমাত্রায়)
  • ফ্ল্যাশ পয়েন্ট: ২৮৮.৩ ± ৩০.১ °C [9]

জৈবিক কার্যকলাপ ও ব্যবহার

গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যারিসিন শক্তিশালী অ্যান্টিটিউমার, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল এবং অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক কার্যকলাপ প্রদর্শন করে।

  • এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ (DNA) সংশ্লেষণ ও কোষ বিভাজনে বাধা দেয় এবং অ্যাপোপটোসিস (Apoptosis) প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে।
  • এটি ম্যালেরিয়া পরজীবীর মেমব্রেনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে এর বৃদ্ধি রোধ করে।[8]

অ্যারিসিন নামক ব্র্যান্ডের কিছু বাহ্যিক মলম (যেগুলোতে কর্টিকোস্টেরয়েড উপাদান ট্রায়ামসিনোলোন থাকে) চর্মরোগ যেমন- একজিমা, অ্যালার্জি, চুলকানি ও ত্বকের প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়।[10]

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

অ্যারিসিন বা এর সম্পর্কিত মলম ত্বকে ব্যবহারের পর প্রাথমিক অবস্থায় ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত কয়েকদিন ব্যবহারের পর শরীর এর সাথে মানিয়ে নেয়। তবে এই প্রভাবগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। খুব বিরল ক্ষেত্রে, এই ওষুধ ত্বক থেকে রক্তপ্রবাহে মিশে গেলে শিশুদের ক্ষেত্রে বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।[10] পাশাপাশি, সাধারণ কোষ ও টিস্যুর ওপর অ্যারিসিনের সম্ভাব্য বিষাক্ত প্রভাব নিয়ে বর্তমানে আরও গবেষণা প্রয়োজন।[8]

তথ্যসূত্র

Template:সূত্র তালিকা

বিষয়শ্রেণী:SciWiki Medicines বিষয়শ্রেণী:রাসায়নিক যৌগ বিষয়শ্রেণী:অ্যালকালয়েড বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদজাত রাসায়নিক পদার্থ বিষয়শ্রেণী:ওষুধ