অ্যামফেপ্রামোন (Amfepramone)
অ্যামফেপ্রামোন (ইংরেজি: Amfepramone), যা ডাইথাইলপ্রোপিওন (Diethylpropion) নামেও সমধিক পরিচিত, হলো একটি ওষুধ যা মূলত স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।[1] এটি সাধারণত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (ডায়েট) এবং ব্যায়ামের পাশাপাশি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।[1] চিকিৎসকরা সাধারণত কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন না।[1]
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
অ্যামফেপ্রামোন ব্যবহারের কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- উদ্বেগ বা ভয়
- ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা
- মাথাব্যথা
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত ঘাম
- বমি বমি ভাব
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা[2]
অন্যান্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (হৃদস্পন্দনের অনিয়ম), সাইকোসিস, ওষুধের প্রতি আসক্তি বা অপব্যবহার এবং পালমোনারি হাইপারটেনশন।[2] গর্ভাবস্থায় এই ওষুধের সুরক্ষার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করা উচিত নয়।[3] এটি মূলত অ্যামফেটামিন (Amphetamine)-এর সমতুল্য একটি উদ্দীপক (Stimulant) হিসেবে কাজ করে।[2]
ইতিহাস ও প্রাপ্যতা
১৯৫৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অ্যামফেপ্রামোন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করে।[1] বর্তমানে এটি একটি জেনেরিক ওষুধ হিসেবেও বাজারে পাওয়া যায়।[4] ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধের ৭৫ মিলিগ্রামের ৩০টি বড়ির (ট্যাবলেট) দাম প্রায় ২০ মার্কিন ডলার।[4] অপব্যবহারের ঝুঁকির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি 'শিডিউল ফোর' (Schedule IV) নিয়ন্ত্রিত পদার্থের তালিকাভুক্ত।[2]
