আণবিক সংকেত (Empirical formula): Difference between revisions
Digantasen (talk | contribs) ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Empirical formula” নিবন্ধের বাংলা অনুবাদ |
Digantasen (talk | contribs) ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Empirical formula” নিবন্ধের বাংলা অনুবাদ |
||
| Line 1: | Line 1: | ||
[[রসায়ন|রসায়নে]], কোনো [[রাসায়নিক যৌগ|রাসায়নিক যৌগের]] '''আণবিক সংকেত''' (empirical formula) হলো সেই যৌগে উপস্থিত [[পরমাণু|পরমাণু]]সমূহের সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত।<ref>Empirical formula</ref> উদাহরণস্বরূপ, সালফার মনোক্সাইড এবং ডাইসালফার ডাইঅক্সাইড—উভয়ই সালফার এবং [[অক্সিজেন|অক্সিজেন]] দ্বারা গঠিত যৌগ—এদের উভয়েরই আণবিক সংকেত হলো SO। তবে, এদের [[রাসায়নিক সংকেত|আণবিক সংকেত]] (molecular formula), যা একটি রাসায়নিক যৌগের প্রতিটি অণুতে পরমাণুর সংখ্যা প্রকাশ করে, তা যথাক্রমে SO এবং S<sub>2</sub>O<sub>2</sub>। | |||
[[রসায়ন|রসায়নে]], কোনো [[রাসায়নিক যৌগ|রাসায়নিক যৌগের]] '''আণবিক সংকেত''' (empirical formula) হলো সেই যৌগে উপস্থিত [[পরমাণু|পরমাণু]]সমূহের সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত।<ref>Empirical formula</ref> উদাহরণস্বরূপ, সালফার মনোক্সাইড এবং ডাইসালফার ডাইঅক্সাইড—উভয়ই সালফার এবং [[অক্সিজেন|অক্সিজেন]] দ্বারা গঠিত যৌগ—এদের উভয়েরই আণবিক সংকেত হলো SO। তবে, এদের আণবিক সংকেত (molecular formula), যা একটি রাসায়নিক যৌগের প্রতিটি অণুতে পরমাণুর সংখ্যা প্রকাশ করে, তা যথাক্রমে SO এবং S<sub>2</sub>O<sub>2</sub>। | |||
একটি আণবিক সংকেত পরমাণুর বিন্যাস বা সংখ্যার কোনো উল্লেখ করে না। এটি অনেক আয়নিক যৌগের ক্ষেত্রে আদর্শ, যেমন ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaCl<sub>2</sub>), এবং বৃহদাকার অণুর ক্ষেত্রে, যেমন সিলিকন ডাইঅক্সাইড (SiO<sub>2</sub>)। | একটি আণবিক সংকেত পরমাণুর বিন্যাস বা সংখ্যার কোনো উল্লেখ করে না। এটি অনেক আয়নিক যৌগের ক্ষেত্রে আদর্শ, যেমন [[ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড|ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড]] (CaCl<sub>2</sub>), এবং বৃহদাকার অণুর ক্ষেত্রে, যেমন সিলিকন ডাইঅক্সাইড (SiO<sub>2</sub>)। | ||
অন্যদিকে, আণবিক সংকেত (molecular formula) একটি অণুতে প্রতিটি ধরনের পরমাণুর সংখ্যা নির্দেশ করে।<ref>MONITOR., WHOLE SKY. [https://worldcat.org/oclc/796720402 URL.].</ref> গাঠনিক সংকেত (structural formula) অণুর বিন্যাস প্রদর্শন করে। বিভিন্ন ধরনের যৌগের একই আণবিক সংকেত থাকা সম্ভব। | অন্যদিকে, আণবিক সংকেত (molecular formula) একটি অণুতে প্রতিটি ধরনের পরমাণুর সংখ্যা নির্দেশ করে।<ref>MONITOR., WHOLE SKY. [https://worldcat.org/oclc/796720402 URL.].</ref> গাঠনিক সংকেত (structural formula) অণুর বিন্যাস প্রদর্শন করে। বিভিন্ন ধরনের যৌগের একই আণবিক সংকেত থাকা সম্ভব। | ||
Latest revision as of 12:40, 21 October 2026
রসায়নে, কোনো রাসায়নিক যৌগের আণবিক সংকেত (empirical formula) হলো সেই যৌগে উপস্থিত পরমাণুসমূহের সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত।[1] উদাহরণস্বরূপ, সালফার মনোক্সাইড এবং ডাইসালফার ডাইঅক্সাইড—উভয়ই সালফার এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত যৌগ—এদের উভয়েরই আণবিক সংকেত হলো SO। তবে, এদের আণবিক সংকেত (molecular formula), যা একটি রাসায়নিক যৌগের প্রতিটি অণুতে পরমাণুর সংখ্যা প্রকাশ করে, তা যথাক্রমে SO এবং S2O2।
একটি আণবিক সংকেত পরমাণুর বিন্যাস বা সংখ্যার কোনো উল্লেখ করে না। এটি অনেক আয়নিক যৌগের ক্ষেত্রে আদর্শ, যেমন ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaCl2), এবং বৃহদাকার অণুর ক্ষেত্রে, যেমন সিলিকন ডাইঅক্সাইড (SiO2)।
অন্যদিকে, আণবিক সংকেত (molecular formula) একটি অণুতে প্রতিটি ধরনের পরমাণুর সংখ্যা নির্দেশ করে।[2] গাঠনিক সংকেত (structural formula) অণুর বিন্যাস প্রদর্শন করে। বিভিন্ন ধরনের যৌগের একই আণবিক সংকেত থাকা সম্ভব।
রসায়নের শুরুর দিকে, যৌগের গঠন সম্পর্কিত তথ্য আসত মৌলিক বিশ্লেষণ (elemental analysis) থেকে, যা একটি যৌগে উপস্থিত উপাদানগুলোর আপেক্ষিক পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য দেয়; এই তথ্য শতাংশ বা মোল অনুপাতে লেখা যেতে পারে। তবে, রসায়নবিদরা তখন এই উপাদানগুলোর সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করতে পারতেন না এবং কেবল তাদের অনুপাত জানতে পারতেন, যেখান থেকেই "আণবিক সংকেত" (empirical formula) নামটি এসেছে। যেহেতু আয়নিক যৌগগুলো অ্যানায়ন এবং ক্যাটায়নের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তাই সমস্ত আয়নিক যৌগের সংকেতই হলো আণবিক সংকেত।[3]
উদাহরণ
- গ্লুকোজ (C6H12O6), রাইবোজ (C5H10O5), অ্যাসিটিক অ্যাসিড (C2H4O2), এবং ফরমালডিহাইড (CH2O)—এদের সবার আণবিক সংকেত ভিন্ন হলেও আণবিক সংকেত (empirical formula) একই: CH2O। এটি ফরমালডিহাইডের প্রকৃত আণবিক সংকেত, কিন্তু অ্যাসিটিক অ্যাসিডে পরমাণুর সংখ্যা দ্বিগুণ, রাইবোজে পাঁচ গুণ এবং গ্লুকোজে ছয় গুণ।
গণনার উদাহরণ
মিথাইল অ্যাসিটেট-এর একটি নমুনার রাসায়নিক বিশ্লেষণ থেকে নিম্নলিখিত মৌলিক উপাত্ত পাওয়া যায়: ৪৮.৬৪% কার্বন (C), ৮.১৬% হাইড্রোজেন (H), এবং ৪৩.২০% অক্সিজেন (O)। আণবিক সংকেত নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে, ধরে নেওয়া যাক আমাদের কাছে ১০০ গ্রাম যৌগ আছে। যদি তাই হয়, তবে শতাংশগুলো প্রতিটি উপাদানের ভরের সমান (গ্রামে) হবে।
- ধাপ ১: প্রতিটি শতাংশকে প্রতিটি উপাদানের ভরের প্রকাশে (গ্রামে) রূপান্তর করুন। অর্থাৎ, ৪৮.৬৪% C হয়ে যায় ৪৮.৬৪ গ্রাম C, ৮.১৬% H হয়ে যায় ৮.১৬ গ্রাম H, এবং ৪৩.২০% O হয়ে যায় ৪৩.২০ গ্রাম O।
- ধাপ ২: প্রতিটি উপাদানের গ্রাম পরিমাণকে মোল পরিমাণে রূপান্তর করুন
- ধাপ ৩: প্রাপ্ত প্রতিটি মানকে এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মানটি (২.৭) দিয়ে ভাগ করুন
- ধাপ ৪: প্রয়োজনে, এই সংখ্যাগুলোকে পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তর করতে পূর্ণসংখ্যা দিয়ে গুণ করুন; যদি একটি সংখ্যার ওপর কোনো অপারেশন করা হয়, তবে তা সবগুলোর ওপরই করতে হবে।
সুতরাং, মিথাইল অ্যাসিটেটের আণবিক সংকেত হলো C3H6O2। কাকতালীয়ভাবে এই সংকেতটি মিথাইল অ্যাসিটেটের আণবিক সংকেতও বটে।[4]
তথ্যসূত্র
- ↑ Empirical formula
- ↑ MONITOR., WHOLE SKY. URL..
- ↑ (2016-06-27). 10.12: Determining Empirical Formulas. Chemistry LibreTexts.
- ↑ PubChem. Methyl Acetate. pubchem.ncbi.nlm.nih.gov.
উৎস: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Empirical formula” নিবন্ধের অনুবাদ। মূল নিবন্ধ: https://en.wikipedia.org/wiki/Empirical_formula এই অনুবাদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
