হৃদরোগবিজ্ঞান / কার্ডিওলজি (Cardiology)

From LTRC
হৃদরোগবিজ্ঞান (Cardiology)
মানব হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন
মানব হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের রেখাচিত্র (নীল: অক্সিজেনবিহীন রক্ত, লাল: অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত)
চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় বিবরণ
চিকিৎসা ক্ষেত্র: অন্তর্নিহিত চিকিৎসাবিজ্ঞান (Internal Medicine)
উপশাখা: ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, ইলেক্ট্রোফিজিওলজি, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, নিউক্লিয়ার কার্ডিওলজি, হার্ট ফেইলিউর ও ট্রান্সপ্লান্ট কার্ডিওলজি
শারীরবৃত্তীয় তন্ত্র: কার্ডিওভাসকুলার বা রক্ত সংবহনতন্ত্র
প্রধান রোগসমূহ: হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি ধমনি ব্যাধি, হার্ট ফেইলিউর, কার্ডিওমায়োপ্যাথি, ভালভুলার হৃদরোগ
প্রধান পরীক্ষাসমূহ: ইসিজি (ECG), ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট (ETT), করোনারি অ্যানজিওগ্রাফি, হোল্টার মনিটরিং, কার্ডিয়াক এমআরআই
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক: কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist)

হৃদরোগবিজ্ঞান বা কার্ডিওলজি (Template:Lang-en, প্রাচীন গ্রিক: Template:Lang-el বা kardía [অর্থ: হৃৎপিণ্ড] এবং Template:Lang-el বা -logia [অর্থ: অধ্যয়ন]) হলো অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের (Internal Medicine) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত শাখা, যা মানব হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালীর (ধমনি ও শিরা) গঠন, শারীরবৃত্ত, রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।[1] এই শাখায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলা হয়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞগণ মূলত বিভিন্ন ওষুধ, জীবনধারা পরিবর্তন এবং নন-সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন (যেমন: করোনারি এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং বা পেসমেকার স্থাপন)-এর মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করেন। এটি কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি (বক্ষ ও হৃৎপিণ্ড শল্যচিকিৎসা)-র থেকে পৃথক; যেখানে সার্জনরা ওপেন-হার্ট সার্জারি, করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং (CABG) কিংবা কৃত্রিম ভালভ প্রতিস্থাপনের মতো জটিল শল্যচিকিৎসা পরিচালনা করেন।[2]

প্রধান উপশাখা ও বিশেষত্বসমূহ

হৃদরোগবিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক হওয়ায় এটি কতগুলো বিশেষায়িত উপশাখায় বিভক্ত:

  • প্রাপ্তবয়স্ক কার্ডিওলজি (Adult Cardiology): প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদযন্ত্রের অর্জিত রোগের চিকিৎসা।
  • পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি (Pediatric Cardiology): শিশু ও নবজাতকদের জন্মগত হৃদত্রুটি (Congenital heart defect) এবং রক্ত সংবহনের ব্যাধির বিশেষায়িত চিকিৎসা।
  • ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (Interventional Cardiology): ক্যাথেটার-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে রক্তনালীর ব্লকেজ খুলে স্টেন্ট (রিং) বসানো, বেলুন এনজিওপ্লাস্টি এবং ক্যাথেটারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন (যেমন TAVI)।
  • কার্ডিয়াক ইলেক্ট্রোফিজিওলজি (Electrophysiology / EP): হৃৎস্পন্দনের বৈদ্যুতিক ছন্দপতন বা অ্যারিথমিয়া নির্ণয়, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ক্যাথেটার অ্যাবলেশন এবং পেসমেকার বা আইসিডি (ICD) স্থাপন।
  • নন-ইনভেসিভ কার্ডিওলজি: ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল টেস্ট (TMT), কার্ডিয়াক সিটি ও নিউক্লিয়ার ইমেজিংয়ের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়।
  • প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি: উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং ডিসলিপিডেমিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগের প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা।

কার্ডিওলজিস্টদের আওতাধীন প্রধান হৃদরোগসমূহ

  • করোনারি ধমনি ব্যাধি ও ইসকেমিক হৃদরোগ: করোনারি ধমনিতে চর্বির প্লাক জমে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়া (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস), দীর্ঘস্থায়ী অ্যানজাইনা (বুকে ব্যথা) এবং তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক)।
  • কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া ও ছন্দপতন: অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া, ব্রাডিকার্ডিয়া (ধীর হৃদস্পন্দন), সিক সাইনাস সিন্ড্রোম, হার্ট ব্লক এবং ওলফ-পারকিনসন-হোয়াইট সিন্ড্রোম (WPW)।
  • হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া ও মায়োপ্যাথি: হার্ট ফেইলিউর (হ্রাসপ্রাপ্ত বা সংরক্ষিত ইজেকশন ফ্র্যাকশন), ডাইলেটেড ও হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি এবং ভেন্ট্রিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইস (VAD) ব্যবস্থাপনা।
  • ভালভুলার হৃদরোগ: অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস, মাইট্রাল রিগারজিটেশন এবং বাতজ্বরজনিত (Rheumatic) ভালভের ক্ষতি।
  • জন্মগত হৃদরোগ: অ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট (ASD), ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট (VSD), টেট্রালজি অব ফ্যালট (TOF) এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টারিওসাস (PDA)।
  • ভাস্কুলার ও অন্যান্য ব্যাধি: প্রয়োজনীয় ও মাধ্যমিক উচ্চ রক্তচাপ, পালমোনারি হাইপারটেনশন, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD), পেরিকার্ডাইটিস (হৃদপর্দার প্রদাহ) এবং সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিস।

প্রধান ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাসমূহ

১. ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG): হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক ছন্দ ও কার্যকলাপ মূল্যায়নের প্রাথমিক ও দ্রুততম পরীক্ষা। ২. ইকোকার্ডিওগ্রাফি (2D Echocardiography): শব্দতরঙ্গের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ, ভালভ এবং ইজেকশন ফ্র্যাকশনের গতিবিধি সরাসরি পর্যবেক্ষণ। ৩. কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট (Exercise Tolerance Test - ETT/TMT): ব্যায়ামের সময় ট্রেডমিলে হৃদযন্ত্রের ওপর শারীরিক চাপের প্রভাব ও রক্তসংকট পর্যবেক্ষণ। ৪. করোনারি অ্যানজিওগ্রাফি (Coronary Angiogram): ক্যাথেটার ও বিশেষ রঞ্জকের মাধ্যমে এক্স-রে স্ক্যানে করোনারি ধমনির ব্লকেজের অবস্থান ও শতাংশ সরাসরি শনাক্তকরণ। ৫. হোল্টার ও ইভেন্ট মনিটরিং: ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে বহনযোগ্য ডিভাইসে ক্রমাগত হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ। ৬. বায়োমার্কার রক্ত পরীক্ষা: হার্ট অ্যাটাক শনাক্তে কার্ডিয়াক ট্রপোনিন (Troponin-I/T) এবং হার্ট ফেইলিউর শনাক্তে বিএনপি (BNP / NT-proBNP) পরীক্ষা।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ What is a Cardiologist? – Texas Heart Institute, ২০২০।
  2. ↑ Cardiology: What it is, when it is needed, and what to expect – Medical News Today, ২০১৭।