স্ত্রীরোগবিজ্ঞান / গাইনোকোলজি (Gynaecology / Gynecology)

From LTRC
স্ত্রীরোগবিজ্ঞান (Gynaecology)
স্পেকুলামের সাহায্যে স্ত্রীরোগ পরীক্ষা
ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম ও আলোক উৎসের সাহায্যে জরায়ুগ্রীবা ও যোনিপথের ক্লিনিকাল পরীক্ষণ
চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় বিবরণ
চিকিৎসা ক্ষেত্র: ক্লিনিকাল চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শল্যচিকিৎসা (Surgical specialty)
অন্য নাম: গাইনোকোলজি, গাইনিকোলজি (Gynecology)
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক: স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynaecologist / Gynecologist)
সংশ্লিষ্ট শাখা: প্রসূতিবিজ্ঞান (Obstetrics - সম্মিলিতভাবে O&G বা OB-GYN)
পুরুষ সমকক্ষ শাখা: অ্যান্ড্রোলজি (Andrology)
অঙ্গক্ষেত্র: স্ত্রী প্রজননতন্ত্র — জরায়ু, ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান নালী, সার্ভিক্স, যোনি ও ভালভা
প্রধান ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা: প্যাপ স্মিয়ার (Pap smear), টিভিএস আল্ট্রাসাউন্ড (TVS), হিস্টেরোস্কোপি, ল্যাপারোস্কোপি, কোলপোস্কোপি

স্ত্রীরোগবিজ্ঞান বা গাইনোকোলজি (Template:Lang-en বা Template:Lang-en)[1] হলো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত ও শল্যচিকিৎসাগত শাখা, যা নারীদেহের স্বাস্থ্য—বিশেষ করে স্ত্রী প্রজনন অঙ্গসমূহ (জরায়ু, ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান নালী, সার্ভিক্স বা জরায়ুমুখ, যোনি এবং স্তন)-এর শারীরস্থান, শারীরবৃত্ত, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের সাথে সম্পর্কিত। এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকোলজিস্ট (Gynecologist) বলা হয়।

শব্দগত অর্থে এটিকে "নারীর চিকিৎসাবিজ্ঞান" বলা যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরুষদের প্রজনন ও যৌনাঙ্গজনিত স্বাস্থ্যসেবার সমকক্ষ শাখাকে অ্যান্ড্রোলজি (Andrology) বলা হয়। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অধিকাংশ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ একই সাথে গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবজনিত বিশেষজ্ঞ বা প্রসূতিবিদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন; ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই দুটি শাখাকে সম্মিলিতভাবে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিজ্ঞান (Obstetrics and Gynaecology বা সংক্ষেপে OB-GYN) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যুৎপত্তি (Etymology)

'গাইনোকোলজি' শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ γυνή (gyne - অর্থ: "নারী") এবং -λογία (-logia - অর্থ: "জ্ঞান", "তত্ত্ব" বা "বিজ্ঞান") থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ এর আক্ষরিক অর্থ হলো "নারীদের বিজ্ঞান বা চিকিৎসাবিদ্যা"।

চিকিৎসাকৃত প্রধান রোগব্যাধি ও সমস্যাসমূহ

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞগণ প্রজনন অঙ্গের বিস্তৃত রোগ ও শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন:

  • প্রজনন অঙ্গের ক্যান্সার ও ক্যান্সার-পূর্বাবস্থা: জরায়ুগ্রীবা বা সার্ভিকাল ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার (Ovarian cancer), যোনি ও ভালভার ম্যালিগন্যান্সি।
  • মাসিক চক্র ও হরমোনজনিত জটিলতা:
    • অ্যামেনোরিয়া (Amenorrhoea): ঋতুস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ বা অনুপস্থিত থাকা।
    • ডিসমেনোরিয়া (Dysmenorrhoea): ঋতুস্রাবের সময় তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা ও ব্যথা।
    • মেনোরেজিয়া (Menorrhagia): অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদী রক্তস্রাব।
    • পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) এবং অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত (AUB)।
  • প্রজননতন্ত্রের কাঠামোগত ব্যাধি: এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডিনোমায়োসিস, জরায়ু ফাইব্রয়েড (মায়োমা), ওভারিয়ান সিস্ট এবং পেলভিক অঙ্গের স্থানচ্যুতি বা জরায়ু নেমে যাওয়া (Pelvic organ prolapse)।
  • বন্ধ্যাত্ব বা সন্তানহীনতা (Infertility): ডিম্বস্ফোটন ত্রুটি, ফ্যালোপিয়ান নালী অবরুদ্ধ হওয়া বা প্রজনন অঙ্গের অক্ষমতাজনিত বন্ধ্যাত্বের মূল্যায়ন ও আধুনিক চিকিৎসা (যেমন আইভিএফ ও আইইউআই প্রস্তুতি)।
  • ইউরোগাইনোকোলজি ও মূত্রনালীর সমস্যা: নারীদের মূত্র নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা (Urinary incontinence) এবং বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)।
  • সংক্রমণ ও যৌনবাহিত রোগ (STIs): পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), সার্ভিসাইটিস, যোনির ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন ক্যান্ডিডিয়াসিস), ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া ও এইচপিভি সংক্রমণ।

ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি

  • ক্লিনিকাল পরীক্ষণ: বাইম্যানুয়াল পেলভিক পরীক্ষা এবং স্পেকুলামের মাধ্যমে যোনিপথ ও জরায়ুমুখের পর্যবেক্ষণ।
  • স্ক্রিনিং: জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত **প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা (Pap smear)** এবং এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট।
  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG / TVS): ট্রান্সভ্যাজাইনাল সোনোগ্রাফির মাধ্যমে জরায়ু, এন্ডোমেট্রিয়ামের পুরুত্ব ও ডিম্বাশয়ের ফলিকল নিখুঁতভাবে পরীক্ষণ।
  • মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারি:
    • হিস্টেরোস্কোপি: ক্যামেরাযুক্ত সরু নালীর সাহায্যে জরায়ু গহ্বরের ভেতর পলিপ বা ফাইব্রয়েড অপসারণ।
    • ল্যাপারোস্কোপি (কি-হোল সার্জারি): ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে ওভারিয়ান সিস্টেক্টমি, টিউবাল লাইগেশন বা এন্ডোমেট্রিওসিসের অপারেশন।
  • হিস্টেরেক্টমি (Hysterectomy): জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু সম্পূর্ণ বা আংশিক কেটে অপসারণ।

ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ

  • অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ড্রাগস (যেমন: বুটোকোনাজোল, মেট্রোনিডাজল, ফ্লুকোনাজোল)।
  • হরমোনাল থেরাপি ও ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল (OCP), প্রোজেস্টিন আইইউডি (Mirena) এবং জিএনআরএইচ অ্যানালগ।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ বানান পার্থক্যের জন্য দেখুন: American and British English spelling differences। ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে Gynaecology এবং মার্কিন প্রেক্ষিতে Gynecology বহুল প্রচলিত; যেমন: International Federation of Gynecology and Obstetrics এবং International Society of Ultrasound in Obstetrics and Gynecology।