স্টেম সেল

From LTRC
স্টেম সেল / মূল কোষ
250px|মেসেনকাইমাল স্টেম সেলের ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোগ্রাফ
মেসেনকাইমাল স্টেম সেলের ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোগ্রাফ
লাতিন Cellula praecursoria
উৎস ভ্রূণ, অস্থিমজ্জা, নাভির রজ্জুর রক্ত
বিকাশ পদ্ধতি স্ব-পুনরুৎপাদন ও পৃথকীকরণ

স্টেম সেল (ইংরেজি: Stem cell) বা মূল কোষ হলো বহুকোষী জীবে উপস্থিত এমন কিছু অবিভেদ্য বা অনির্দিষ্ট কোষ, যা ক্রমাগত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নিজের মতো আরও মূল কোষ তৈরি করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সংকেতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কোষে রূপান্তরিত হতে সক্ষম।[1] মানবদেহে বা অন্যান্য জীবে স্টেম সেলগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ মেরামত ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষয়পূরণ ঘটায়।[2]

বৈশিষ্ট্য

স্টেম সেলের প্রধান কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরের অন্যান্য কোষ থেকে একে পৃথক করে:

  1. স্ব-পুনরুৎপাদন (Self-renewal): এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নিজেদের অবিকল প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
  2. অবিশেষায়িত প্রকৃতি (Unspecialized nature): প্রাথমিকভাবে এদের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোগত ভূমিকা থাকে না।
  3. পৃথকীকরণের ক্ষমতা (Differentiation potency): যথাযথ উদ্দীপনায় এগুলো পেশিকোষ, রক্তকোষ, স্নায়ুকোষ বা অস্থিকোষের মতো নির্দিষ্ট কার্যক্ষম কোষে রূপান্তরিত হতে পারে।[1]

প্রকারভেদ

উৎস ও ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে স্টেম সেলকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ভ্রূণীয় স্টেম সেল (Embryonic Stem Cells): মানব ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের পর্যায় (ব্লাস্টোসিস্ট) থেকে সংগৃহীত হয়। এগুলো শরীরের প্রায় সব ধরনের কোষে রূপান্তরিত হতে পারে (Pluripotent)।
  • প্রাপ্তবয়স্ক স্টেম সেল (Adult Stem Cells): পূর্ণাঙ্গ মানবদেহের বিভিন্ন কলা বা অঙ্গে (যেমন—অস্থিমজ্জা) থাকে। এগুলো নির্দিষ্ট অঙ্গের কোষ উৎপাদনে সক্ষম (Multipotent)।
  • নাভির রজ্জুর স্টেম সেল (Cord Blood Stem Cells): সন্তান প্রসবের পর নাভির রজ্জু (Umbilical cord) এবং প্লাসেন্টা থেকে সংগৃহীত রক্তে পাওয়া যায়।

চিকিৎসা ও গবেষণা

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণায় স্টেম সেলের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি, স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয়রোধে স্টেম সেল কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা চলছে।[1]

চিকিৎসাক্ষেত্রে স্টেম সেলের ব্যবহারে টিস্যুর সামঞ্জস্য বা জিনগত পার্থক্যের জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে কম বাধা সৃষ্টি করে।[3]

গবেষণার ইতিহাস

১৯৬০-এর দশকে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্টারিও ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষক আর্নেস্ট ম্যাককুলোক এবং জেমস টিল-এর কাজের মাধ্যমে স্টেম সেলের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।[4][5]

চিকিৎসায় বহুলভাবে স্বীকৃত স্টেম সেল থেরাপি হলো হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল প্রতিস্থাপন (Hematopoietic Stem Cell Transplantation)।[6] ১৯৫৮ সালে ফরাসি অনকোলজিস্ট জর্জেস ম্যাথে (Georges Mathé) এটি প্রথম প্রয়োগ করেন।

স্টেম সেল ব্যাংকিং

বর্তমানে সন্তান প্রসবের পর নাভির রজ্জু প্রক্রিয়াজাত করে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয় এবং তরল নাইট্রোজেনে **-১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-196°C)** তাপমাত্রায় স্টেম সেল ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। এই কোষগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ইনজেকশন ও পুনরুজ্জীবনকারী উপাদান তৈরি করা হচ্ছে।[3]

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ 1.0 1.1 1.2 "Stem Cells". MedlinePlus, National Library of Medicine, National Institutes of Health. 25 January 2025. https://medlineplus.gov/stemcells.html
  2. ↑ "বড় রোগের ওষুধ লুকিয়ে রয়েছে নাভির রজ্জুতে". Andhra Bhoomi. 16 June 2023. http://andhrabhoomi.net/content/sun-27
  3. ↑ 3.0 3.1 "మూల కణాలతో ఔషధ ప్రయోగాలు వేగిరం (স্টেম সেল নিয়ে চিকিৎসা গবেষণা ত্বরান্বিত)". Eenadu. 4 February 2025.
  4. ↑ Becker AJ, McCulloch EA, Till JE (1963). "Cytological demonstration of the clonal nature of spleen colonies derived from transplanted mouse marrow cells". Nature. 197 (4866): 452–454. doi:10.1038/197452a0.
  5. ↑ Siminovitch L, McCulloch EA, Till JE (1963). "The distribution of colony-forming cells among spleen colonies". Journal of Cellular and Comparative Physiology. 62 (3): 327–336. doi:10.1002/jcp.1030620313.
  6. ↑ Müller AM, Huppertz S, Henschler R (2016). "Hematopoietic Stem Cells in Regenerative Medicine: Astray or on the Path?". Transfusion Medicine and Hemotherapy. 43 (4): 247–254. doi:10.1159/000447748.

বিষয়শ্রেণী:স্টেম সেল বিষয়শ্রেণী:কোষ জীববিজ্ঞান বিষয়শ্রেণী:চিকিৎসাবিজ্ঞান