শ্বাসপ্রশ্বাস / শ্বাসকার্য (Breathing / Ventilation / ফুসফুসীয় বায়ুচলাচল)

From LTRC
শ্বাসপ্রশ্বাস (Breathing)
File:Real-time MRI - Thorax.ogv
মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় ফুসফুস ও ডায়াফ্রামের নড়াচড়া (রিয়েল-টাইম এমআরআই)
শারীরবৃত্তীয় বিবরণ
ল্যাটিন নাম: respiratio
তন্ত্র: শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system)
প্রধান ধাপসমূহ: প্রশ্বাস (Inhalation / Inspiration) ও নিঃশ্বাস (Exhalation / Expiration)
প্রধান অঙ্গসমূহ: ফুসফুস, মধ্যচ্ছদা (Diaphragm), ইন্টারকোস্টাল পেশি, শ্বাসনালী (Trachea)
স্বাভাবিক হার: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ১২–২০ বার (বিশ্রামরত অবস্থায়)
মূল কাজ: বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং বিপাকীয় বর্জ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) নিষ্কাশন

শ্বাসপ্রশ্বাস বা শ্বাসকার্য (Template:Lang-en), যা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে ফুসফুসীয় বায়ুচলাচল (Template:Lang-en) নামে পরিচিত, হলো এমন একটি জৈবিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব পরিবেশ থেকে বায়ুকে ফুসফুস বা অন্যান্য শ্বাস-অঙ্গের (যেমন ফুলকা) অভ্যন্তরে টেনে নেয় এবং পুনরায় তা বাইরে বের করে দেয়।

কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি (ATP) উৎপাদনের জন্য প্রতিটি কোষের অবিরাম অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এই বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে উৎপন্ন বিষাক্ত ও অম্লীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) দেহ থেকে দ্রুত নিষ্কাশন করা জীবনরক্ষার জন্য অপরিহার্য। শ্বাসপ্রশ্বাস মূলত শারীরবৃত্তীয় শ্বসনপ্রক্রিয়ার (Physiological respiration) প্রথম এবং প্রত্যক্ষ যান্ত্রিক ধাপ।

শ্বাসপ্রশ্বাসের মূল পর্যায় দুটি

শ্বাসকার্য দুটি ছন্দময় ও পারস্পরিক বিপরীতমুখী পর্যায়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হয়:

  1. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (Inhalation / Inspiration): এটি একটি সক্রিয় (Active) প্রক্রিয়া। প্রধান শ্বাসপেশি মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম (Diaphragm) সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে যায় এবং পাঁজরের বহিঃস্থ ইন্টারকোস্টাল পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে বুকের খাঁচাকে ওপরের ও বাইরের দিকে টেনে তোলে। এর ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ বায়ুর চাপ (Intrapulmonary pressure) বায়ুমণ্ডলীয় চাপের চেয়ে কমে যায়। চাপের এই পার্থক্যের কারণে নাক বা মুখের মাধ্যমে অক্সিজেনসমৃদ্ধ তাজা বাতাস দ্রুত ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ে প্রবেশ করে।
  2. নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (Exhalation / Expiration): সাধারণ শান্ত অবস্থায় এটি একটি নিষ্ক্রিয় (Passive) প্রক্রিয়া। ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশিগুলো শিথিল হলে ফুসফুস ও বুকের খাঁচার নিজস্ব স্থিতিস্থাপকতার (Elastic recoil) কারণে বক্ষগহ্বর পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এতে ফুসফুসের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অ্যালভিওলাই থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ দূষিত বায়ু শ্বাসনালী দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।

$$\text{বায়ুমণ্ডলীয় বায়ু} \xrightarrow[\text{প্রশ্বাস}]{\text{অক্সিজেন গ্রহণ}} \text{ফুসফুসের অ্যালভিওলাই} \xrightarrow[\text{রক্ত সংবহন}]{\text{গ্যাসীয় বিনিময়}} \text{দেহকোষ} \xrightarrow[\text{নিঃশ্বাস}]{\text{কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্জন}} \text{বহির্গমন}$$

শারীরবৃত্তীয় নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্ব

  • মস্তিষ্ককাণ্ডের (Brainstem) অন্তর্ভুক্ত মজ্জামুখ বা **মেডুলা অবলংগাটা** এবং **পনস**-এ অবস্থিত শ্বসনকেন্দ্র (Respiratory center) অনৈচ্ছিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ছন্দ ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
  • রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে বা রক্তের pH কমে অম্লীয় হলে মহাধমনি ও ক্যারোটিড বডির কেমোরিসেপ্টরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শ্বসনকেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ও গভীরতা বাড়িয়ে দেয়।
  • কোনো কারণে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে গিয়ে তীব্র রেসপিরেটরি অ্যাসিডোসিস এবং মস্তিষ্কের অক্সিজেন ঘাটতির কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র