মহাবিপন্ন প্রজাতি
Template:তথ্যছক সংরক্ষণ অবস্থা
মহাবিপন্ন প্রজাতি (Template:Lang-en, সংক্ষেপে CR) হলো আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) কর্তৃক প্রণীত আইইউসিএন লাল তালিকার অন্তর্ভুক্ত বন্য পরিবেশে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংরক্ষণ স্তর। যখন কোনো জীবপ্রজাতির (প্রাণী, উদ্ভিদ বা ছত্রাক) বন্য জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হ্রাস পায় এবং নিকট ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার চরমতম বা আসন্ন ঝুঁকি তৈরি হয়, তখন সেটিকে 'মহাবিপন্ন' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।[1]
এটি সংকটাপন্ন (Threatened) শ্রেণিভুক্ত তিনটি স্তরের মধ্যে সর্বাধিক সংকটাপন্ন এবং তীব্রতার দিক থেকে এটি সরাসরি বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (EW) স্তরের পূর্ববর্তী ধাপ।
পরিসংখ্যান ও বৈশ্বিক প্রবণতা
আইইউসিএন-এর বিভিন্ন সময়কালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মহাবিপন্ন স্তরে থাকা প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে:
- ১৯৯৮ সালের মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী ৮৫৪টি প্রাণী এবং ৯০৯টি উদ্ভিদ প্রজাতিকে 'মহাবিপন্ন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
- ২০১৪ সালের লাল তালিকায় (সংস্করণ ২০১৪.২) এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২,৪৬৪টি প্রাণী প্রজাতি এবং ২,১০৪টি উদ্ভিদ প্রজাতিতে পৌঁছায়।[2]
- নদী ও জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র বিনষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত শিকার, চোরাশিকার, বন উজাড় এবং দূষণের কারণে সামুদ্রিক ও স্থলজ বহু প্রজাতি বর্তমানে এই চরম সংকটে পতিত হয়েছে।
মহাবিপন্ন হিসেবে ঘোষণার বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড
একটি প্রজাতিকে আইইউসিএন-এর মানদণ্ডে 'মহাবিপন্ন' (CR) হিসেবে ঘোষণা করতে হলে নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হয়:
- বিগত ১০ বছর বা তিন প্রজন্মে বন্য জনসংখ্যার পরিমাণ ৮০% থেকে ৯০% বা তার বেশি হ্রাস পাওয়া।
- ভৌগোলিক বিস্তৃতি (extent of occurrence) ১০০ বর্গকিলোমিটারের কম অথবা বাসস্থান এলাকা (area of occupancy) ১০ বর্গকিলোমিটারের কম হওয়া এবং আবাসের তীব্র অবক্ষয় ঘটা।
- পূর্ণাঙ্গ প্রজননক্ষম প্রাণীর মোট সংখ্যা ২৫০টির নিচে নেমে আসা এবং ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা।
- প্রজননক্ষম সদস্য সংখ্যা ৫০টির কম হওয়া।
- পরিমাণগত বিশ্লেষণে দেখা যাওয়া যে আগামী ১০ বছর বা ৩ প্রজন্মের মধ্যে বন্য পরিবেশে প্রজাতিটির বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমপক্ষে ৫০%।
উল্লেখযোগ্য মহাবিপন্ন প্রজাতিসমূহ
- জলজ প্রাণী ও মাছ: বেলুগা স্টার্জন (Huso huso - ক্যাভিয়ারের জন্য অতিরিক্ত শিকারের শিকার), ভাঙ্কুইটা (Vaquita - ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের বিরল পোরপোয়েজ), গাঙ্গেয় ঘড়িয়াল।
- স্তন্যপায়ী: জাভান গণ্ডার, সুমাত্রান গণ্ডার, পাহাড়ি গরিলা, সুমাত্রান ওরাংওটাং, উত্তর আটলান্টিক রাইট তিমি।
- পাখি: বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান, চামচ-ঠোঁটো বাটান (Spoon-billed sandpiper), ক্যালিফোর্নিয়া কনডোর, কাকাপো তোতাপাখি।
- সরীসৃপ ও উভচর: ফিলিপাইন কুমির, হকসবিল সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত ডার্ট ব্যাঙ।
সংরক্ষণ ও সুরক্ষা পদক্ষেপ
মহাবিপন্ন প্রজাতিগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ও বিশেষায়িত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়:
- আইনগত কঠোর সুরক্ষা: এই প্রজাতিগুলোর যেকোনো ধরনের শিকার, নিধন, কেনাবেচা বা ক্ষতিসাধন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বন্যপ্রাণী আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- ইন-সিটু অভয়ারণ্য: অবশিষ্ট বন্য সদস্যদের রক্ষায় সশস্ত্র বনরক্ষী দ্বারা কঠোরভাবে সুরক্ষিত 'কোর জোন' ও সংরক্ষিত বন তৈরি।
- ক্যাপটিভ ব্রিডিং ও জিন সংরক্ষণ: নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কেন্দ্রে প্রাণীদের কৃত্রিম প্রজনন ঘটানো এবং ক্রায়োপ্রিজারভেশন পদ্ধতিতে শুক্রাণু, ডিম্বাণু ও ভ্রূণ সংরক্ষণ করা।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ Apes extinct in a generation – BBC News, ২০০৫।
- ↑ Table 2: Changes in numbers of species in the threatened categories (CR, EN, VU) from 1996 to 2014 – IUCN, ২০১৪।
শ্রেণী:সংরক্ষণ অবস্থা শ্রেণী:মহাবিপন্ন প্রজাতি শ্রেণী:জীববিজ্ঞান শ্রেণী:বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শ্রেণী:বাস্তুসংস্থান
