বিপন্ন প্রজাতি

From LTRC

Template:তথ্যছক সংরক্ষণ অবস্থা

বিপন্ন প্রজাতি (Template:Lang-en, সংক্ষেপে EN) হলো আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) কর্তৃক নির্ধারিত লাল তালিকার একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংরক্ষণ বিভাগ। বন্য পরিবেশে কোনো প্রজাতির জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেলে, প্রাকৃতিক বাসস্থান বিনষ্ট হলে অথবা অতিরিক্ত শিকারের ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রজাতিটির বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকলে সেটিকে 'বিপন্ন' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির ঝুঁকির ক্ষেত্রে মহাবিপন্ন (CR) স্তরের ঠিক পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তীব্র স্তর।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যান ও প্রবণতা

আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সাথে সাথে বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে:

  • ১৯৯৮ সালের মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী ১,১০২টি প্রাণী প্রজাতি এবং ১,১৯৭টি উদ্ভিদ প্রজাতিকে বিপন্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
  • ২০১২ সালের লাল তালিকায় (সংস্করণ ২০১২.২) এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,০৭৯টি প্রাণী এবং ২,৬৫৫টি উদ্ভিদে পৌঁছায়।[1]
  • বাসস্থান ধ্বংস, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজাতি এই ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।

বিপন্ন হিসেবে মূল্যায়নের বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড

কোনো প্রজাতিকে আইইউসিএন-এর মানদণ্ডে 'বিপন্ন' (EN) হিসেবে ঘোষণা করতে হলে নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

  1. বিগত ১০ বছর বা তিন প্রজন্মে প্রজাতির সংখ্যা ৫০% থেকে ৭০% বা তার বেশি হ্রাস পাওয়া।
  2. ভৌগোলিক বিস্তৃতি (extent of occurrence) ৫,০০০ বর্গকিলোমিটারের কম অথবা বাসস্থান এলাকা (area of occupancy) ৫০০ বর্গকিলোমিটারের কম হওয়া।
  3. পূর্ণাঙ্গ প্রজননক্ষম প্রাণীর মোট সংখ্যা ২,৫০০টির নিচে নেমে আসা এবং ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া।
  4. পরিমাণগত বিশ্লেষণে দেখা যাওয়া যে আগামী ২০ বছর বা ৫ প্রজন্মের মধ্যে বন্য পরিবেশে প্রজাতিটির বিলুপ্তির সম্ভাবনা কমপক্ষে ২০%।

উল্লেখযোগ্য বিপন্ন প্রজাতিসমূহ

  • স্তন্যপায়ী: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় হাতি, নীল তিমি, তুষার চিতা (স্নো লেপার্ড), লাল পান্ডা।
  • পাখি ও সরীসৃপ: বনরুই, সবুজ সামুদ্রিক কাচ্ছপ (Green sea turtle), মিশরীয় শকুন।
  • উদ্ভিদ: রক্তচন্দন (Red sanders), বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড ও ঔষধি বৃক্ষ।

সংরক্ষণ পদক্ষেপ ও আইনি সুরক্ষা

বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে বিভিন্ন আইন ও কৌশল কার্যকর করা হয়েছে:

  • আইনি নিষেধাজ্ঞা ও ট্র্যাকিং: বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ কনভেনশন (CITES) অনুসারে বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও চোরাচালান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও অভয়ারণ্য: জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাসস্থান সংরক্ষণ করা।
  • ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ: বন্য পরিবেশে নজরদারির পাশাপাশি প্রজনন কেন্দ্রে কৃত্রিম প্রজনন (captive breeding), বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং জিন ব্যাংকে বংশগতি উপাদান সংরক্ষণ করা।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

শ্রেণী:সংরক্ষণ অবস্থা শ্রেণী:জীববিজ্ঞান শ্রেণী:বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শ্রেণী:বাস্তুসংস্থান