ডার্মাটোফাইট

From LTRC

Template:তথ্যছক রোগ

ডার্মাটোফাইট (Template:Lang-en) হলো বিশেষ এক শ্রেণির প্যাথোজেনিক ছত্রাক, যা মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ত্বক, চুল ও নখের উপরিভাগের মৃত কলায় সংক্রমণ সৃষ্টি করে। এই ছত্রাকগুলো ত্বক ও উপাঙ্গে বিদ্যমান শক্ত তন্তুময় প্রোটিন 'কেরাটিন' (keratin) হজম করে পুষ্টি গ্রহণ করে; ফলে এদের কেরাটিনোফিলিক (keratinophilic) ছত্রাকও বলা হয়। ডার্মাটোফাইট দ্বারা সৃষ্ট ত্বকের সংক্রমণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডার্মাটোফাইটোসিস (Dermatophytosis) বা সাধারণ ভাষায় দাদ / টিনিয়া (Tinea বা Ringworm) বলা হয়।

গ্রিক শব্দ derma (অর্থ: "ত্বক") এবং phyton (অর্থ: "উদ্ভিদ") থেকে 'ডার্মাটোফাইট' পরিভাষার উৎপত্তি।

প্রধান তিনটি গণ (Genera)

ডার্মাটোফাইটের প্রায় ৪০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে, যা প্রধানত তিনটি গণের (genera) অন্তর্ভুক্ত:

  1. ট্রাইকোফাইটন (Trichophyton): ত্বক, চুল এবং নখ—তিনটি অংশেই আক্রমণ করতে সক্ষম। এর প্রধান উদাহরণ Trichophyton rubrum ও Trichophyton mentagrophytes।
  2. মাইক্রোস্পোরাম (Microsporum): প্রধানত ত্বক এবং চুলে সংক্রমণ ঘটায় (সাধারণত নখে আক্রমণ করে না)। যেমন: Microsporum canis, যা পোষা বিড়াল ও কুকুর থেকে ছড়ায়।
  3. এপিডার্মোফাইটন (Epidermophyton): ত্বক ও নখে আক্রমণ করে (চুলে সংক্রমণ ঘটায় না)। যেমন: Epidermophyton floccosum।

পরিবেশ ও সংক্রমণের উৎস অনুসারে শ্রেণিবিভাগ

  • অ্যানথ্রোপোফিলিক (Anthropophilic): মূলত মানুষের শরীরে বসবাস করে এবং মানুষ থেকে মানুষে সংস্পর্শ বা ব্যবহৃত তোয়ালে, চিরুনি ও কাপড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • জুওফিলিক (Zoophilic): গৃহপালিত পশু (বিড়াল, কুকুর, গরু ও ঘোড়া) থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।
  • জিওফিলিক (Geophilic): মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে বাস করে এবং মাটির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটায়।

সংশ্লিষ্ট রোগসমূহ (টিনিয়ার রূপভেদ)

আক্রান্ত অঙ্গের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ডার্মাটোফাইটোসিসকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়:

  • টিনিয়া ক্যাপিটিস (Tinea capitis): মাথার খুলি ও চুলের দাদ, যার ফলে চুল পড়ে যাওয়া বা বৃত্তাকার টাকের সৃষ্টি হয়।
  • টিনিয়া কর্পোরিস (Tinea corporis): শরীরের সাধারণ ত্বক ও বুকে-পিঠে বৃত্তাকার চুলকানিযুক্ত দাদ।
  • টিনিয়া পেডিস (Tinea pedis বা Athlete's Foot): পায়ের পাতায় ও আঙুলের খাঁজে চুলকানি ও ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা।
  • টিনিয়া ক্রুরিস (Tinea cruris বা Jock Itch): কুঁচকি ও উরুর সন্ধিস্থলে তীব্র চুলকানিযুক্ত সংক্রমণ।
  • টিনিয়া আনগুয়িয়াম বা অনাইকোমাইকোসিস (Onychomycosis): নখের ছত্রাক সংক্রমণ, যার ফলে নখ পুরু, ভঙ্গুর ও বিবর্ণ হয়ে যায়।

লক্ষণ ও রোগ নির্ণয়

  • ত্বকে লালচে, বৃত্তাকার ও আঁশযুক্ত রিং বা চাকা তৈরি হওয়া যার কিনারা কিছুটা স্ফীত থাকে।
  • তীব্র চুলকানি ও আক্রান্ত স্থানে প্রদাহ।
  • রোগ নির্ণয়: ত্বকের উপরিভাগ বা নখের স্ক্র্যাপিং সংগ্রহ করে ১০–২০% পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) টেস্টের মাধ্যমে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছত্রাকের হাইফি পর্যবেক্ষণ করা হয় অথবা স্যাবোরাড ডেক্সট্রোজ অ্যাগার (SDA) মাধ্যমে কালচার করে নির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করা হয়।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

  • টপিকাল অ্যান্টিফাঙ্গাল: প্রাথমিক ও সীমিত ত্বকীয় সংক্রমণে ক্লোট্রিমাজোল, মাইকোনাজোল, টারবিনাফিন বা কিটোকোনাজোল ক্রিম ব্যবহার করা হয়।
  • সিস্টেমিক অ্যান্টিফাঙ্গাল: নখ বা মাথার চুলের গভীর সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার ওষুধ যেমন টারবিনাফিন, ইট্রাকোনাজোল বা গ্রিসিওফুলভিন প্রয়োগ করা হয়।
  • প্রতিরোধ: শরীর শুকনো ও পরিষ্কার রাখা, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র


শ্রেণী:ছত্রাক শ্রেণী:চর্মরোগ শ্রেণী:সংক্রামক রোগ শ্রেণী:মাইকোলজি