জাইগোমাইকোটা
জাইগোমাইকোটা (Template:Lang-en), যা সাধারণত জাইগোট ছত্রাক (Zygote fungi) নামে পরিচিত, হলো ছত্রাক জগতের (Kingdom Fungi) একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী পর্ব (Phylum)। এ পর্যন্ত এই গোষ্ঠীর প্রায় ১,০৬০টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এই পর্বের ছত্রাকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যৌন জননের সময় দুটি ভিন্ন ধরনের গ্যামেটাঞ্জিয়ার মিলনের ফলে পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট ও প্রতিকূলতা প্রতিরোধী বিশ্রামরত রেণু বা 'জাইগোস্পোর' (Zygospore) তৈরি হয়।
আধুনিক আণবিক ফাইলোজেনেটিক্স গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে জাইগোমাইকোটা একটি একক পূর্বপুরুষীয় বা মনোফাইলেটিক (monophyletic) দল নয়, বরং এটি একটি পলিফাইলেটিক সমাহার। ফলে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে এই পর্বটিকে ভেঙে প্রধানত দুটি নতুন পর্বে ভাগ করা হয়েছে: Mucoromycota এবং Zoopagomycota।[1]
বাসস্থান ও বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা
জাইগোমাইসিটিস ছত্রাকগুলো মূলত স্থলজ পরিবেশে বসবাস করে:
- মৃতজীবী (Saprophytes): এগুলো মাটিতে, উদ্ভিদের পচনশীল অবশিষ্টাংশ এবং প্রাণীর বর্জ্যে বিয়োজক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে জন্মায় (যেমন: পাউরুটির কালো ছত্রাক বা ব্রেড মোল্ড Rhizopus stolonifer)।
- পরজীবী (Parasites): কিছু প্রজাতি অন্যান্য ছত্রাক, কীটপতঙ্গ এবং ক্ষুদ্র কৃমির (নেমাটোড) দেহে আক্রমণ করে পরজীবী হিসেবে বেঁচে থাকে (যেমন: Entomophthorales)।
- মিথোজীবী (Symbionts): এন্ডোগোনেলেস বর্গের সদস্যরা উদ্ভিদের মূলের সাথে মাইকোরাইজাল সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।
শারীরবৃত্তীয় ও প্রজননগত বৈশিষ্ট্য
- সিনোসাইটিক হাইফি (Coenocytic Hyphae): এদের ছত্রাকজাল বা মাইসেলিয়াম প্রস্থপ্রাচীরবিহীন (aseptate) এবং বহুকেন্দ্রিক (multinucleated)। সাধারণত জননাঙ্গ বা স্পোর তৈরির স্থান ব্যতীত হাইফিতে কোনো সেপটা থাকে না।
- অযৌন জনন: অনুকূল পরিবেশে স্পোরাঞ্জিওফোর নামক বিশেষায়িত দণ্ডের শীর্ষে গোলকাকার 'স্পোরাঞ্জিয়াম' (sporangium) তৈরি হয়। এর ভেতরে অসংখ্য অচল স্পোরাঞ্জিওস্পোর উৎপন্ন হয়, যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে নতুন ছত্রাকের জন্ম দেয়।
- যৌন জনন: দুটি বিপরীত জনন প্রকৃতির (+ এবং -) হাইফির অগ্রভাগ মিলিত হয়ে গ্যামেটাঞ্জিয়া তৈরি করে। এদের মিলনে ডিপ্লয়েড ও পুরু কাইটিনযুক্ত 'জাইগোস্পোর' গঠিত হয়, যা দীর্ঘকাল সুপ্ত অবস্থায় প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করতে পারে।
অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
- খাদ্য শিল্প ও গাঁজন: Rhizopus oligosporus সয়াবিনের গাঁজনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাবার 'টেম্পে' (Tempeh) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- জৈব অ্যাসিড উৎপাদন: শিল্পক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ফিউমারিক অ্যাসিড এবং স্টেরয়েড রূপান্তরে এই ছত্রাক ব্যবহার করা হয়।
- রোগ সৃষ্টি (মিউকরমাইকোসিস): রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে Rhizopus এবং Mucor গণের ছত্রাক মারাত্মক ও প্রাণঘাতী সংক্রমণ মিউকরমাইকোসিস (কালো ছত্রাক রোগ) সৃষ্টি করতে পারে।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
শ্রেণী:ছত্রাক শ্রেণী:জাইগোমাইকোটা শ্রেণী:অণুজীব শ্রেণী:মাইকোলজি
