ক্যানডিডা
ক্যানডিডা (Template:Lang-la) হলো এককোষী ইস্ট জাতীয় ছত্রাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত গণ। এটি অ্যাসকোমাইকোটা পর্বের স্যাকারোমাইসিটিস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ক্যানডিডা গণের বহু প্রজাতি নিরীহ অনুজীব হিসেবে মানবদেহের ত্বক, মুখগহ্বর, পরিপাকতন্ত্র এবং যোনিপথে স্বাভাবিক ফ্লোরা (commensal microflora) হিসেবে বসবাস করে। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে এরা সুবিধাবাদী সংক্রামক (opportunistic pathogen) হিসেবে আক্রমণ চালায়। ক্যানডিডা প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণকে সামগ্রিকভাবে ক্যানডিডিয়াসিস (Candidiasis) বা "থ্রাশ" (Thrush) বলা হয়।
১৯২৩ সালে ডাচ মাইকোলজিস্ট ক্রিস্টিন মারি বেরখউট (Christine Marie Berkhout) তাঁর ডক্টরাল গবেষণাপত্রে এই গণের আনুষ্ঠানিক নামকরণ ও বর্ণনা করেন। লাতিন শব্দ candida (অর্থ: "উজ্জ্বল সাদা") থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে, যা এদের কালচারে গঠিত সাদা চকচকে কলোনিকে নির্দেশ করে।
জীবতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও রূপান্তর
- দ্বিরূপতা (Dimorphism): ক্যানডিডা গণের অন্যতম প্রধান প্রজাতি Candida albicans পরিবেশ ও তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে রূপ পরিবর্তন করতে পারে। এরা সাধারণ অবস্থায় এককোষী উপবৃত্তাকার ইস্টের মতো মুকুলোদগমের (budding) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে, কিন্তু অনুকূল আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ হায়ফি (hyphae) বা সিউডোহায়ফি (pseudohyphae) গঠন করে কলা ভেদ করতে পারে।
- বায়োফিল্ম গঠন: এরা ক্যাথেটার, কৃত্রিম হার্ট ভালভ ও প্রোস্থেটিক জয়েন্টের মতো মেডিকেল যন্ত্রপাতির উপরিভাগে ঘন বায়োফিল্ম (biofilm) তৈরি করতে পারে, যা এদের অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী করে তোলে।
প্রধান রোগ সৃষ্টিকারী প্রজাতিসমূহ
ক্যানডিডা গণে দুই শতাধিক প্রজাতি থাকলেও মানবদেহের অধিকাংশ সংক্রমণের জন্য কয়েকটি প্রধান প্রজাতি দায়ী:
- Candida albicans: মানবদেহে ক্যানডিডিয়াসিস সংক্রমণের প্রায় ৫০–৭০% ঘটনার জন্য এককভাবে দায়ী।
- Candida glabrata: বিশেষ করে বয়স্ক এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে মূত্রনালী ও রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।
- Candida tropicalis: অনকোলজি ও লিউকেমিয়া রোগীদের রক্তপ্রবাহের গুরুতর সংক্রমণে প্রায়ই পাওয়া যায়।
- Candida parapsilosis: নবজাতক এবং কেন্দ্রীয় ভেনাস ক্যাথেটার ব্যবহারকারী রোগীদের সংক্রমিত করে।
- Candida krusei: সাধারণ অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ফ্লুকোনাজোল (Fluconazole)-এর বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধী।
- Candida auris: একটি উদীয়মান বৈশ্বিক সুপারবাগ, যা একাধিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে উচ্চ প্রতিরোধী এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটায়।
ক্যানডিডিয়াসিস ও সংশ্লিষ্ট রোগসমূহ
- মিউকোসাল ক্যানডিডিয়াসিস:
- ওরাল থ্রাশ (Oral Thrush): মুখগহ্বর, জিহ্বা ও গলায় সাদাটে দাগ বা আবরণ তৈরি হয়।
- ভ্যাজাইনাল ক্যানডিডিয়াসিস (যোনি থ্রাশ): মহিলাদের যৌনাঙ্গে চুলকানি, প্রদাহ এবং ঘন সাদা ক্ষরণ হয়।
- অন্ননালী প্রদাহ (Esophagitis): এইডস বা অনাক্রম্যতা হ্রাস পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্য গিলতে তীব্র ব্যথা হয়।
- ত্বকের ক্যানডিডিয়াসিস: আর্দ্র ও ভাঁজযুক্ত স্থানে (যেমন: স্তনের নিচে, কুঁচকি বা ডায়াপার র্যাশ) লালচে ঘা সৃষ্টি হয়।
- ইনভেসিভ বা সিস্টেমিক ক্যানডিডিয়াসিস: ছত্রাক রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে (ক্যানডিডেমিয়া) হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ক্যানডিডা সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রধানত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহৃত হয়:
- স্থানীয় বা ত্বকীয় সংক্রমণে ক্লোট্রিমাজোল, মাইকোনাজোল বা নিস্টাটিন মলম/লোশন।
- পদ্ধতিগত বা গুরুতর সংক্রমণে ওরাল বা ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুকোনাজোল, ভরিকোনাজোল, ইকাইনোক্যান্ডিন (যেমন: ক্যাস্পোফাঙ্গিন) অথবা অ্যামফোটেরিসিন বি প্রয়োগ করা হয়।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
শ্রেণী:ছত্রাক
শ্রেণী:অ্যাসকোমাইকোটা
শ্রেণী:প্যাথোজেনিক ছত্রাক
শ্রেণী:ইস্ট
