এন্ডোমেট্রিয়াম / জরায়ু-অন্তঃস্তর (Endometrium)

From LTRC
এন্ডোমেট্রিয়াম (Endometrium)
জরায়ুর গঠন ও এন্ডোমেট্রিয়াম
জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান নালীর শারীরস্থান (মাঝখানে ডানপাশে এন্ডোমেট্রিয়াম নির্দেশিত)
এন্ডোমেট্রিয়ামের হিস্টোলজি
উচ্চ বিবর্ধনে প্রোজেস্টেরনের প্রভাবে ডেসিডুয়ালাইজড এন্ডোমেট্রিয়ামের আণুবীক্ষণিক দৃশ্য
শারীরস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় বিবরণ
ল্যাটিন নাম: tunica mucosa uteri
তন্ত্র: স্ত্রী প্রজননতন্ত্র (Female reproductive system)
অবস্থান: জরায়ুর (Uterus) সর্ব-অভ্যন্তরীণ শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি বা মিউকাস স্তর
প্রধান স্তরসমূহ: ১. স্ট্র্যাটাম ফাংশনালিস (কার্যকরী স্তর)
২. স্ট্র্যাটাম ব্যাসালিস (ভিত্তি স্তর)
নিয়ন্ত্রক হরমোন: ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন
প্রধান কাজ: নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ব্লাস্টোসিস্টের রোপণ (Implantation), প্লাসেন্টা গঠন ও ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ
প্রধান রোগব্যাধি: এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডিনোমায়োসিস, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রাইটিস

এন্ডোমেট্রিয়াম (Template:Lang-la, Template:Lang-en) হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের সক্রিয় শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি বা মিউকাস পর্দা। এটি মূলত স্ত্রী যৌন হরমোনগুলোর (প্রধানত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন) প্রভাবে প্রতিটি ঋতুচক্রে (Menstrual cycle) নিয়মিত ছন্দময় কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

প্রজননক্ষম বয়সে প্রতি মাসে গর্ভধারণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এন্ডোমেট্রিয়াম স্তরটি পুরু, রক্তনালীবহুল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। নিষেক বা গর্ভধারণ না ঘটলে এই স্তরের ওপরের অংশ ভেঙে রক্ত ও টিস্যু হিসেবে যোনিপথ দিয়ে নির্গত হয়—যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঋতুস্রাব বা মেনস্ট্রুয়েশন (Menstruation) নামে পরিচিত। রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ (Menopause) ঘটার পর এই চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

গঠন ও হিস্টোলজি (Anatomical Structure)

এন্ডোমেট্রিয়াম একটি একক স্তরের স্তম্ভাকার আবরণী কলা (Columnar epithelium), গ্রন্থিময় কলা (Uterine glands) এবং রক্তনালীসমৃদ্ধ স্ট্রোমা বা ভিত্তি কলা নিয়ে গঠিত। হিস্টোলজিক্যালভাবে এটি দুটি প্রধান স্তরে বিভক্ত:[1]

  1. স্ট্র্যাটাম ফাংশনালিস (Stratum functionalis বা কার্যকরী স্তর): এটি জরায়ু গহ্বরের সংলগ্ন ওপরের পুরু স্তর। এটি হরমোনের পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মাসিক চক্রের সময় এটি ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভধারণ না হলে ঋতুস্রাবের সময় সম্পূর্ণ খসে পড়ে।
  2. স্ট্র্যাটাম ব্যাসালিস (Stratum basalis বা ভিত্তি স্তর): এটি মায়োমেট্রিয়ামের (পেশিস্তর) সাথে সংযুক্ত নিচের স্থায়ী স্তর। এটি ঋতুস্রাবের সময় খসে পড়ে না; বরং ঋতুস্রাব শেষে নতুন ফাংশনালিস স্তর পুনর্গঠনে স্টেম সেল সরবরাহ করে।

মাসিক চক্র ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন

  • প্রলিফারেটিভ পর্যায় (Proliferative phase): ডিম্বাশয়ের ফলিকল থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে এন্ডোমেট্রিয়ামের কোষ বিভাজন ঘটে এবং স্তরটি দ্রুত পুরু হয়।
  • সিক্রেটরি পর্যায় (Secretory phase): ডিম্বস্ফোটনের (Ovulation) পর করপাস লিউটিয়াম থেকে প্রোজেস্টেরন নিঃসৃত হয়। এর ফলে এন্ডোমেট্রিয়াল গ্রন্থিগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ তরল ক্ষরণ করে এবং রক্তনালীগুলো পেঁচানো রূপ ধারণ করে ভ্রূণ রোপণের (Implantation) উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে।
  • ঋতুস্রাব পর্যায় (Menstrual phase): গর্ভধারণ না হলে হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়, ফলে স্পাইরাল ধমনীগুলো সংকুচিত হয়ে ফাংশনালিস স্তরটি ভেঙে রক্তসহ বাইরে নির্গত হয়।

সম্পর্কিত রোগব্যাধি ও জটিলতা

  • এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis): যখন এন্ডোমেট্রিয়ামের মতো কোষকলা জরায়ুর বাইরে অন্যান্য অঙ্গে—যেমন ডিম্বাশয় (Ovary), ফ্যালোপিয়ান নালী বা শ্রোণীদেশের পেরিটোনিয়ামে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তীব্র তলপেটে ব্যথা ও বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।
  • অ্যাডিনোমায়োসিস (Adenomyosis): যখন এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু জরায়ুর নিজস্ব পেশিবহুল স্তর বা মায়োমেট্রিয়ামের (Myometrium) ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ করে বৃদ্ধি পায়।
  • এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার (Endometrial Cancer): জরায়ুর অন্তঃস্তরের আবরণী কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যান্সার, যা সাধারণত মেনোপজের পর অস্বাভাবিক রক্তপাতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
  • এন্ডোমেট্রাইটিস (Endometritis): ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়া।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

  • পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড (TVS / USG): শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে এন্ডোমেট্রিয়ামের পুরুত্ব (Endometrial thickness), পলিপ বা অস্বাভাবিক সিস্ট শনাক্তকরণ।[2]
  • এমআরআই (Pelvic MRI): এন্ডোমেট্রিওসিস বা অ্যাডিনোমায়োসিসের সঠিক বিস্তৃতি ও গভীরতা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়।
  • এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসি ও হিস্টেরোস্কোপি: মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষার জন্য জরায়ুর ভেতরের টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ।
  • ল্যাপারোস্কোপি (Laparoscopy): জরায়ুর বাইরের এন্ডোমেট্রিওটিক ক্ষত বা সিস্ট সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডায়াগনস্টিক ও অস্ত্রোপচার পদ্ধতি।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ Blue Histology - Female Reproductive System – The University of Western Australia, ২০০৬।
  2. ↑ ఎండోమెట్రియోసిస్‌ అంటే? – Andhra Jyothy, ২০২২।