অ্যাসকোমাইকোটা
অ্যাসকোমাইকোটা (Template:Lang-en) হলো ছত্রাক জগতের (Kingdom Fungi) অন্তর্ভুক্ত বৃহত্তম পর্ব (Phylum)। এ পর্বের সদস্যদের সাধারণ ভাষায় থলে ছত্রাক বা স্যাক ফাঙ্গি (Sac fungi) বলা হয়। বর্তমানে এই পর্বে ৬৪,০০০টিরও বেশি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। মিঠাপানির জলাশয় ও সমুদ্র থেকে শুরু করে বনভূমি ও চরম শুষ্ক মরুভূমি পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের উপস্থিতি দেখা যায়।
অ্যাসকোমাইকোটা পর্বের প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো এদের যৌন জননকালে 'অ্যাসকাস' (Ascus) নামক একটি থলে আকৃতির অণুবীক্ষণিক গঠন তৈরি হয়। এই থলির ভেতরে মায়োসিস ও পরবর্তী মাইটোসিসের মাধ্যমে সাধারণত আটটি 'অ্যাসকোস্পোর' (Ascospores) উৎপন্ন হয়, যা পরিপক্ক অবস্থায় আর্দ্র পরিবেশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে নতুন ছত্রাকের জন্ম দেয়। জেনেটিক্স গবেষণায় ক্রসিং-ওভার ও রিকম্বিনেশন বিশ্লেষণে এই পর্বের ছত্রাক (যেমন: Neurospora crassa) আদর্শ মডেল জীব হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপপর্ব ও শ্রেণিবিন্যাস
অ্যাসকোমাইকোটা পর্বকে প্রধানত তিনটি স্বীকৃত উপপর্বে বিভক্ত করা হয়:
- স্যাকারোমাইকোটিনা (Saccharomycotina): এগুলো মূলত এককোষী "প্রকৃত ইস্ট" (true yeasts)। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো বেকার্স ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae), যা পাউরুটি ও অ্যালকোহল শিল্পে ব্যবহৃত হয়; এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্যানডিডা (Candida) প্রজাতি। এরা প্রধানত মুকুলোদগম (budding) প্রক্রিয়ায় অযৌন জনন সম্পন্ন করে।
- ট্যাফরিনোমাইকোটিনা (Taphrinomycotina): এরা অ্যাসকোমাইসিটের একটি আদিম গোষ্ঠী, যার মধ্যে উদ্ভিদের পরজীবী ছত্রাক (যেমন: পীচ ফলের পাতা কুঁকড়ানো রোগ সৃষ্টিকারী Taphrina) এবং ফুসফুসের সংক্রমণকারী Pneumocystis অন্তর্ভুক্ত। এদের দেহে সুস্পষ্ট অ্যাসকোকার্প (ফলন্ত দেহ) গঠিত হয় না।
- পেজিজোমাইকোটিনা (Pezizomycotina): এটি অ্যাসকোমাইকোটার সর্ববৃহৎ উপপর্ব। এদের দেহে সুস্পষ্ট ফ্রুটিং বডি বা অ্যাসকোকার্প (যথা: অ্যাপোথেসিয়াম, পেরিখেসিয়াম, ক্লেইস্টোথেসিয়াম) থাকে। বিভিন্ন কাপ ফাঙ্গাস, মূল্যবান খাদ্যোপযোগী ট্রাফল (Truffles) ও মোরেল (Morels), অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুতকারী পেনিসিলিয়াম (Penicillium), বিষাক্ত আফলাটক্সিন উৎপাদনকারী অ্যাসপারজিলাস (Aspergillus) এবং উদ্ভিদের পরজীবী ক্ল্যাভিসেপস (Claviceps) এই উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব
- খাদ্য ও জীবপ্রযুক্তি শিল্প: বেকারি শিল্পে পাউরুটি ফোলাতে, মদ তৈরিতে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় এবং সোয়া সসের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে ইস্ট ও অ্যাসকোমাইসিটস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক 'পেনিসিলিন' এই পর্বের ছত্রাক (Penicillium chrysogenum) থেকেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ দমনকারী ওষুধ সাইক্লোস্পোরিন এবং এরগট অ্যালকালয়েডসমূহ এই পর্বের ছত্রাক থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা: লাইকেন (Lichen) গঠনের মাধ্যমে এরা শৈবালের সঙ্গে মিথোজীবী সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বনভূমিতে মৃত কাঠ ও জটিল জৈব পদার্থ (সেলুলোজ ও লিগনিন) পচনে প্রধান বিয়োজক হিসেবে কাজ করে।
- রোগ সৃষ্টি: বেশ কিছু অ্যাসকোমাইসিট উদ্ভিদ ও প্রাণীতে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে; যেমন উদ্ভিদের গুঁড়ো ছত্রাক রোগ (Powdery mildew), ডাচ এলম ডিজিজ এবং মানবদেহে ক্যানডিডিয়াসিস ও অ্যাসপারজিলোসিস।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
শ্রেণী:ছত্রাক
শ্রেণী:অ্যাসকোমাইকোটা
শ্রেণী:অণুজীব
শ্রেণী:জীববিজ্ঞান
