অ্যামিবা
অ্যামিবা (ইংরেজি: Amoeba) হলো এককোষী ইউক্যারিওটিক অণুজীবের একটি গণ। এরা প্রধানত ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া (Pseudopodia) নামক অস্থায়ী প্রবর্ধক তৈরি করে স্থান পরিবর্তন করে এবং খাদ্য গ্রহণ (ফ্যাগোসাইটোসিস) সম্পন্ন করে। এদের কোনো নির্দিষ্ট ও স্থায়ী দৈহিক আকার নেই; সাইটোপ্লাজমের অভ্যন্তরীণ প্রবাহের মাধ্যমে এরা অনবরত রূপ পরিবর্তন করতে পারে।
আবিষ্কারের ইতিহাস
অ্যামিবা প্রথম আবিষ্কার করেন জার্মান প্রকৃতিবিদ অগাস্ট জোহান রোসেল ভন রোজেনহফ ১৭৫৭ সালে।[1] প্রাথমিক যুগের বিজ্ঞানীরা গ্রিক পৌরাণিক রূপ পরিবর্তনকারী দেবতা 'প্রোটিয়াস'-এর নামানুসারে একে "প্রোটিয়াস অ্যানিম্যালকিউল" (Proteus animalcule) বলে অভিহিত করতেন। পরবর্তীতে ১৮২২ সালে ফরাসি প্রকৃতিবিদ বোরি দ্য সাঁ-ভঁসো (Bory de Saint-Vincent) এর নামকরণ করেন অ্যামিবা (Amoeba)।[2] গ্রিক শব্দ amoibè (αμοιβή) অর্থ "পরিবর্তন", যা অণুজীবটির ক্রমাগত আকৃতি বদলানোর বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
দৈহিক গঠন ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
- কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম: অ্যামিবার দেহ একটি নমনীয় প্লাজমালেমা বা কোষঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। এর সাইটোপ্লাজম দুটি স্তরে বিভক্ত—বাহ্যিক স্বচ্ছ 'এক্টোপ্লাজম' এবং অভ্যন্তরীণ দানাদার তরল 'এন্ডোপ্লাজম'।
- নিউক্লিয়াস ও গহ্বর: এন্ডোপ্লাজমে একটি সুগঠিত নিউক্লিয়াস, খাদ্য গহ্বর (food vacuoles) এবং একটি সংকোচনশীল গহ্বর (contractile vacuole) থাকে। সংকোচনশীল গহ্বরটি অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ (osmoregulation) প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে কোষের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করে।
- চলন ও খাদ্যগ্রহণ: সাইটোপ্লাজমের সল-জেল রূপান্তরের মাধ্যমে ক্ষণপদ সৃষ্টি করে অ্যামিবা সামনে অগ্রসর হয়। এরা ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল ও অন্যান্য আণুবীক্ষণিক জৈব কণা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে খাদ্য গহ্বরে আবদ্ধ করে পরিপাক করে।
- জনন: অনুকূল পরিবেশে অ্যামিবা প্রধানত দ্বি-বিভাজন (binary fission) প্রক্রিয়ায় অযৌন প্রজনন সম্পন্ন করে। প্রতিকূল পরিবেশে এরা রেণু বা সিস্ট (cyst) তৈরির মাধ্যমে বেঁচে থাকে।
রোগ সৃষ্টিকারী সংশ্লিষ্ট অ্যামিবয়েড জীবসমূহ
অ্যামিবয়েড শ্রেণির কয়েকটি প্রজাতি মানবদেহে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে:
- এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা (Entamoeba histolytica): এটি মানবদেহের বৃহদান্ত্রে আক্রমণ করে অ্যামিবিয়াসিস বা অ্যামিবিক আমাশয় (Amoebic dysentery) সৃষ্টি করে।
- নেগলেরিয়া ফাউলেরি (Naegleria fowleri): এটি "মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা" (brain-eating amoeba) নামে পরিচিত। মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় নাক দিয়ে প্রবেশ করে এটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (PAM) বা মস্তিষ্ক প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- অ্যাকান্থামিবা (Acanthamoeba): এটি কর্নিয়ায় আক্রমণ করে অ্যামিবিক কেরাটিনাইটিস (Amoebic keratitis) নামক চোখের রোগ তৈরি করে, যা বিশেষ করে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা যায়।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ Amoeba proteus – The American Naturalist, ১৮৭৮।
- ↑ Dictionnaire classique d'histoire naturelle – ১৮২৬।
শ্রেণী:এককোষী জীব শ্রেণী:অ্যামিবোজোয়া শ্রেণী:প্রোটিস্টা শ্রেণী:অণুজীব
